৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সৃজনশীল প্রশ্ন ৩য় অধ্যায়

৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সৃজনশীল প্রশ্ন ৩য় অধ্যায়: সংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণত সমাজের মানুষের জীবন-যাপনের ধারাকে বুঝে থাকি। অর্থাৎ সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবন-প্রণালি। মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণের লক্ষ্যে যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই হলো তার সংস্কৃতি। মানুষের এসব সৃষ্টি বা কাজ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। বস্তুগত ও অবস্তুগত। সংস্কৃতিকেও তাই দুইভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। ঘরবাড়ি, তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, উৎপাদন হাতিয়ার এসব হচ্ছে বস্তুগত সংস্কৃতি। অবস্তুগত সংস্কৃতি হচ্ছে ব্যক্তির দক্ষতা, জ্ঞান, চিন্তা-ভাবনা, আচার-ব্যবহার, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলা ইত্যাদি। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল । আদিকাল হতে সমাজে বসবাসকারী মানুষ তার সৃষ্টিকে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক সাংস্কৃতিক জীবনে উন্নীত করেছে।

সংস্কৃতির এই পরিবর্তনে বিভিন্ন উপাদান যেমন প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি সংস্কৃতির উন্নয়নেও এসব উপাদান কমবেশি অবদান রেখেছে। হাতিয়ার আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে প্রথম পরিবর্তন আসে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের ব্যবহার্য ও ভোগের সামগ্রী এবং চিন্তা চেতনায় যখন পরিবর্তন লক্ষ করা যায় তখন তাকে বলা হয় মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। আমরা সপ্তম শ্রেণিতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ধারণা পেয়েছি। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সম্পর্কে জানব।


৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সৃজনশীল প্রশ্ন ৩য় অধ্যায়

প্রশ্ন ১: আজমল সাহেব ৫ বছর পর কাতার থেকে দেশে ফিরে তার ছেলে-মেয়েদের পরিবর্তন দেখে বিস্মিত হলেন। তার মেয়ে ইন্টারনেট থেকে ঘরে বসেই নতুন নতুন তথ্য ও দেশ-বিদেশের খবর জানছে। ছেলে ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করছে। তার ছোট ভাই বিদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের জীবনযাপনেও পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

ক. সামাজিক উন্নয়ন কী?
খ. অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে কী বলে? ব্যাখ্যা কর।
গ. আজমল সাহেবের পরিবারে কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের বৈচিত্র্যগুলো সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে-এর সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সামাজিক উন্নয়ন হলো এক ধরনের সামাজিক পরিবর্তন।

খ। অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলে। সাংস্কৃতিক আতীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ এক কথায় সমগ্র জীবনধারার সাথে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে।

গ। আজমল সাহেবের পরিবারে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। পরিবেশ-পরিস্থিতি ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে। সংস্কৃতি এক প্রজন্ম হতে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সংস্কৃতির মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। আবার অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেও সংস্কৃতি তার রূপ বদল করে। একেই সংস্কৃতির পরিবর্তন বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলে। প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে।

উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, আজমল সাহেব পাঁচ বছর পর কাতার থেকে দেশে ফিরে দেখেন মেয়ে ঘরে বসেই ইন্টারনেট থেকে নতুন নতুন তথ্য এবং দেশ-বিদেশের খবর জেনে নিচ্ছে। ছেলে ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে ও যোগাযোগ রাখছে। আজমল সাহেবের ছোট ভাই বিদেশ থেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে আজমল সাহেবের ম পরিবারের এরূপ পরিবর্তন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকেই নির্দেশ করে।

ঘ। হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের বৈচিত্রগুলো সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে গোটা বিশ্ব এখন একটি বিশ্বপল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। যার ফলে যোগাযোগ প্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট প্রযুক্তি বর্তমানে দেশ বা দেশের বাইরে এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের যোগাযোগকে খুবই সহজ করে দিয়েছে।

আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভাববিনিময়, পরস্পরের খোঁজখবর নেওয়া, টাকা পাঠানো, বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা ইত্যাদি এখন ঘরে বসে অল্প সময়েই করা যায়। এছাড়া ফেসবুকের সাহায্যে খুব সহজে দেশে বা বিদেশে যে কোনো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি এবং মতামত বিনিময় করা যায়। আ এভাবে তথ্যপ্রযুক্তি সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।

উদ্দীপকে আজমল সাহেবের পরিবারে তথ্য প্রযুক্তির উল্লিখিত দিকগুলোর ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তথ্য প্রযুক্তির এরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার তার পরিবারের সদস্যদের কাজকে সহজতর করেছে। এভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যপ্রযুক্তির বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার সমাজ পরিবর্তণে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন ২: দৃশ্যকল্প-১: জনাব নিজাম উদ্দিন ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। তিনি সম্প্রতি পরিবারসহ নেপাল ভ্রমণ করেন। নেপালের রাজপ্রাসাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তার সন্তানদের বলেন এই কার্যালয় হতে আমাদের ভাষার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছিল।
দৃশ্যকল্প-২: নবীন মাঝি কাপ্তাই লেকে নৌকা চালায়। পর্যটকেরা তার নৌকায় ভ্রমণ করলে তিনি তার গান দিয়ে তাদের বিমোহিত করেন।

ক. সংস্কৃতায়ন কী?
খ. সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন কী একই? ব্যাখ্যা করো।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ নিজাম সাহেবের বর্ণনায় কোন শিল্পটিকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ নবীন মাঝির কার্যক্রম যে শিল্পের অন্তর্গত তা বিভিন্ন মানুষের অবদানে সমৃদ্ধ”— বিশ্লেষণ করো।

২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। নিজ সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজ সংস্কৃতির সাথে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়াকে সংস্কৃতায়ন বলা হয়

খ। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন এক নয়। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলতে সংস্কৃতির ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের পরিবর্তনকেই বোঝায়। অর্থাৎ সংস্কৃতির ইতিবাচক বা নেতিবাচক যেকোনো পরিবর্তনকেই সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলা হয়। কিন্তু উন্নয়ন বলতে শুধুমাত্র কাঙ্ক্ষিত বা ইতিবাচক পরিবর্তনকেই বোঝায়। অর্থাৎ সংস্কৃতির উন্নয়ন হলো সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন। তাই সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন এক নয়।

গ। দৃশ্যকল্প-১ এ নিজাম সাহেবের বর্ণনায় সাহিত্য শিল্পকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাঙালি শিল্পের অন্যতম দিক হলো সাহিত্য শিল্প। বাঙালির প্রথম যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় তা চর্যাপদ নামে পরিচিত। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম নেপালের রাজ দরবার থেকে এগুলো আবিষ্কার করেন। পরে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেন। তিনি গবেষণা করে জানান প্রায় বারোশো বছর আগে বৌদ্ধ সাধকরা এগুলো লিখেছেন। এগুলোই হলো আদি বাংলা সাহিত্যের নমুনা। চর্যাগীতির বিখ্যাত রচয়িতার মধ্যে ছিলেন লুইপা এবং কাহ্নপা প্রমুখ।

দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে জনাব নিজাম উদ্দিন সম্প্রতি পরিবারসহ নেপাল ভ্রমণ করেন। নেপালের রাজপ্রাসাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সন্তানদের বলেন, এই কার্যালয় হতে আমাদের ভাষার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। মূলত জনাব নিজাম উদ্দিনের বক্তব্যে চর্যাপদ আবিষ্কারের বিষয়টিই ফুটে উঠেছে যা বাঙালি সাহিত্য শিল্পের প্রাচীন নিদর্শন।

ঘ। দৃশ্যকল্প-২ এ নবীন মাঝির কার্যক্রম সঙ্গীত শিল্পের অন্তর্গত। আর সঙ্গীত শিল্প বিভিন্ন মানুষের অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় সঙ্গীত সাধনা চলে আসছে। এখানকার মাঠে প্রান্তরে কৃষক হালচাষ করতে যেমন গান বেধেছে, তেমনি নদী ও খালে নৌকা বাইতে বাইতে মাঝি গলা ছেড়ে গান গেয়েছে। আবার সাধারণ মানুষ তার মতো করে গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করেছে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ নবীন মাঝিও গান গেয়েছেন যা বাংলার সঙ্গীত শিল্পকেই নির্দেশ করে। প্রাচীনকালে চর্যাপদ নামের প্রথম সাহিত্যকর্মের যে সন্ধান পাওয়া যায়, তা ছিল মূলত আমাদের আদি সঙ্গীত যা বৌদ্ধ ধর্মের সাধকরা রচনা করেছিলেন। এরপর মধ্যযুগে সুলতানি আমলে শ্রীচৈতন্য বৈষ্ণব ভাবধারায় বাংলায় কীর্তন গান রচনার জোয়ার আনেন। শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার কাহিনী নিয়ে এসব আবেগপূর্ণ গান রচিত হয়েছে। কীর্তন গান হিন্দু সামজে এখনও প্রচলিত। তবে বাউল ও ভাটিয়ালি গান’গ্রামের হিন্দু মুসলমান সবাই গেয়ে থাকে। তাছাড়া মুর্শিদ, পালাগান, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি বহু ধরনের আঞ্চলিক লোকগান ছড়িয়ে আছে সারা বাংলাজুড়ে।

নিধুবাবু, কালীমির্জা প্রমুখ হয়ে রবীন্দ্রনাথের হাতে বাংলার নাগরিক গান উৎকর্ষের শীর্ষে পৌছায়। রবীন্দ্রনাথের পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সঙ্গীতে স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র্যেরও মাধ্যমে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। এছাড়া অতুল প্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন আধুনিক বাংলা গানের সমৃদ্ধিতে তাদের অবদান ব্যাপক। উপরের আলোচনা থেকে বলা দৃশ্যকল্প-২ এ নবীন মাঝির কার্যক্রমে বাংলার সঙ্গীত শিল্প নির্দেশিত হয়েছে যা বিভিন্ন মানুষের অবদানে সমৃদ্ধি লাভ করেছে।

প্রশ্ন ০৩: মামুন উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য কানাডা যায়। সেখানে সে কানাডার মানুষের জীবনধারা ও আচার-আচরণ শিখে সে সেগুলো চর্চা করতে চেষ্টা করে। সেখানে দশ বছর অবস্থান করে সে বাংলাদেশে ফিরে এদেশের সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করে। এখন মানুষ মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করে। এখন একজনকে বাজারে গিয়ে পোশাক কিনতে হয় না বরং সে অনলাইনেই কেনাকাটা করতে পারে।

ক. চর্যাপদ কী?
খ. আমরা আমাদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে সচেতন হবো কেন?
গ. কানাডায় মামুনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির পরিবর্তনের কোন উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. তুমি কি মনে কর তোমার পাঠ্যবইয়ের যে ধারণাটি বাংলাদেশের মামুনের পর্যবেক্ষণে প্রতিফলিত হয়েছে তা সংস্কৃতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। চর্যাপদ হলো বাঙালির প্রথম সাহিত্যকর্ম।

খ। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতেই আমাদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদেরও একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে। এই সংস্কৃতির মাধ্যমে আমাদের জীবনপ্রণালি, ঐতিহ্য, চিন্তাশক্তি, সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। বর্তমানে বিশ্বায়নের প্রভাবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মধ্যে সংমিশ্রণের ফলে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটছে। তাই নিজস্ব সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

গ। কানাডায় মামুনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ প্রতিফলিত হয়েছে। সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ। আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যেমন- মানুষ যখন কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ এককথায় সমগ্র জীবনধারার সাথে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় তা আত্তীকরণ হয়ে যায়।

জীবিকার প্রয়োজনে বা অন্য কোনো কারণেও মানুষ নিজ এলাকা থেকে স্থানান্তর হলে ঐ এলাকার সংস্কৃতির সাথে নিজেকে আতীকরণ করতে চেষ্টা করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য কানাডায় গিয়ে সেখানকার মানুষের জীবনধারা ও আচার-আচরণ শিখে ও সেগুলো চর্চা করতে চেষ্টা করে যা সাংস্কৃতিক আতীকরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, কানাডার মামুনের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ। হ্যাঁ, আমি মনে করি মামুনের বাংলাদেশ পর্যবেক্ষণে আমার পাঠ্যবইয়ের প্রযুক্তির ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে যা সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে গোটা বিশ্ব এখন বিশ্ব পল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। যার ফলে যোগাযোগ প্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়েছে।

প্রযুক্তির কল্যাণে ইন্টারনেট মোবাইল ইত্যাদি ব্যবহার করে এখন ঘরে বসেই যেকোনো সময় আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভাব বিনিময়, পরস্পরের খোঁজখবর নেওয়া যায়। ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের খবর জানা যায়। ই-কমার্স প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসে কেনাকাটাও করা যায়। ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই দেশে-বিদেশে যেকোনো মানুষের সাথে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি এবং মতামত ও ছবি বিনিময় করা যায়। এভাবে প্রযুক্তির কল্যাণে এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।

উদ্দীপকের মামুনও বাংলাদেশে এসে দেখে যে এখন মানুষ মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করছে যা মূলত প্রযুক্তির অংশ। প্রযুক্তির মাধ্যমে এদেশের মানুষের সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটেছে। তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারছে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশে মামুনের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ধারণটি ফুটে উঠেছে। যা সংস্কৃতির উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন ৪: দৃশ্যকল্প-১: শ্রাবণী ঢাকার জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করে বাংলার পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এ সময় তার বাবা তাকে বলেন, বাংলার প্রাচীন আমলের এরকম একটি নিদর্শন আছে যা থেকে প্রাচীন বাংলার সাহিত্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারি।
দৃশ্যকল্প-২ সালেহা গ্রামে একটি বৈশাখী মেলায় গানের অনুষ্ঠান উপভোগ করে। অনুষ্ঠানটিতে অনেক ধরনের গান গাওয়া হয়। সালেহা জানতে পারে গানগুলো গ্রামের কৃষক, জেলে, মাঝি-মাল্লাসহ সাধারণ মানুষেরা গেয়ে থাকেন।

ক. সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ কাকে বলে?
খ. কোন সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল? ব্যাখ্যা করো।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যের কোন বিষয়টির চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এর বিষয়টি বাংলার সংগীত শিল্পের সমৃদ্ধতার পরিচয় বহন করে’— উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে তাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলা হয়।

খ। অবস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। অবস্তুগত সংস্কৃতি হচ্ছে ব্যক্তির দক্ষতা, জ্ঞান, চিন্তা-ভাবনা, আচার- ব্যবহার বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, সঙ্গীত, সাহিত্য ও শিল্পকলা ইত্যাদি। এগুলো পরিবর্তনের কারণেই মানুষ আধুনিক সাংস্কৃতিক জীবনে উন্নীত হয়েছে। এগুলো সমাজে প্রতিনিয়তই নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। তাই এই অবস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।

গ। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের চিত্র ফুটে উঠেছে। বাঙালির প্রথম যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় তা চর্যাপদ নামে পরিচিত। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম নেপালের রাজদরবার থেকে এগুলো আবিষ্কার করেন। পরে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গবেষণা করে জানান প্রায় বারশো বছর আগে বৌদ্ধ সাধকরা এগুলো লিখেছেন।


🔆 আরও দেখুন: নবম-দশম বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ১ম অধ্যায় MCQ
🔆 আরও দেখুন: নবম-দশম বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ১২ অধ্যায় MCQ
🔆 আরও দেখুন: নবম-দশম বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ১৩ অধ্যায় MCQ
🔆 আরও দেখুন: নবম-দশম বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ১০ম অধ্যায় MCQ


উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, শ্রাবণী ঢাকার জাতীয় জাদুঘর ‘পরিদর্শনকালে তার বাবার কাছ থেকে জানতে পারে, প্রাচীন আমলের একটি নিদর্শন রয়েছে যা থেকে বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এটি চর্যাপদকে নির্দেশ করছে। কারণ চর্যাপদ হলো আদি বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন। শাব্দিক অর্থের পাশাপাশি এগুলোর ভাবার্থও রয়েছে। এর পদগুলো এখন বোঝা কঠিন। চর্যাগীতির বিখ্যাত রচয়িতাদের মধ্যে ছিলেন লুইপা এবং কাহ্নপা প্রমুখ। চর্যাপদে সে সময়ের ধর্ম, সমাজসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হওয়ায় দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলা সাহিত্যে এ নিদর্শনের কথাই বলা হয়েছে।

ঘ। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর বিষয়টি অর্থাৎ লোকসংগীত বাংলা সংগীত শিল্পের সমৃদ্ধতার পরিচয় বহন করে’- উক্তিটি যথার্থ। বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ। এখানকার কৃষক যেমন হালচাষ করতে করতে গান বেঁধেছে, আবার মাঝি নৌকা বাইতে বাইতেও গান গেয়েছে। সাধারণ মানুষ গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনাও করেছে।

বাউল, ভাটিয়ালি, কীর্তন, মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি বহু ধরনের আণালিক লোকসংগীত ছড়িয়ে আছে সারা বাংলা জুড়ে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, সালেহা গ্রামের বৈশাখি মেলায় অনেক ধরনের গান শোনে। এগুলো কৃষক, জেলে, মাঝিমাল্লাসহ সাধারণ মানুষের গান। এখানে বহু ধরনের আঞ্চলিক লোকসংগীতকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা বাংলার সমৃদ্ধ সংগীত শিল্পের পরিচয় দেয়।

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বহু ধরনের লোকসংগীত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসব গানে আধ্যাত্মিক বিষয়, সমাজ সংস্কৃতি, ইতিহাস- ঐতিহ্য, আবেগ-অনুভূতি, সামাজিক সমস্যা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় ফুটে উঠেছে। এগুলোর বাণী যেমন সমৃদ্ধ, সুরও তেমনি বৈচিত্র্যময়। যেমন- কীর্তন গান হিন্দু সমাজে পাওয়া হয়, আবার বাউল ও ভাটিয়ালি গান হিন্দু-মুসলমান সকলেই গেয়ে থাকে। বিষয় ও সুরের বৈচিত্র্যতায় এসব লোকগান বাংলাদেশের সংগীত শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। অতএব বলা যায়, বাংলার বৈচিত্র্যময় লোকসংগীত এদেশের সংগীত শিল্পের সমৃদ্ধতার চিত্রকেই তুলে ধরে।

JSC পরিক্ষায় আসা ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সৃজনশীল প্রশ্ন ৩য় অধ্যায়

প্রশ্ন ৫: রূপা দীর্ঘদিন মা বাবার সাথে বিদেশে ছিল। সম্প্রতি সে দেশে বেড়াতে এসেছে। রূপা ও তার চাচাত বোনেরা একত্রে নিজ বাসা খুলনা থেকে কুয়াকাটায় সূর্যাস্ত দেখতে যায়। সেখানে বাঁশের তৈরি কিছু সুন্দর সুন্দর কটেজ দেখে সে বিস্মিত হয়। নৌপথে ফিরে আসার সময় মাঝিদের কণ্ঠে ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না’— গানটি শুনতে পায়।

ক. সংস্কৃতি কী?
খ. সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার একটা কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. রূপার দেখা কটেজটি কোন শিল্পের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ অংশে যে শিল্পের ইঙ্গিত রয়েছে তা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে বিশ্লেষণ করো।

৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সংস্কৃতি হলো সমাজের মানুষের জীবনযাপনের ধারা বা জীবনপ্রণালি।

খ। সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার একটা অন্যতম কারণ হলো সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি। সংস্কৃতি বহমান। দুটি সমাজের সংস্কৃতি পরস্পরের সংস্পর্শে আসলে একে অপরকে প্রভাবিত করে। এই প্রক্রিয়া যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, সংস্কৃতির আদান-প্রদান তত বেশি হয়। সংস্কৃতির সংমিশ্রণে। এই প্রসার লাভ হলো সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি। বিশ্বায়নের ফলে এবং প্রযুক্তির উন্নতিতে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি অনেক বেড়ে গেছে।

গ। রূপার দেখা কটেজটি দৃশ্যশিল্পের অন্তর্গত। যেসব শিল্প বা সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্য, নকশা, স্থাপত্য প্রভৃতি ফুটিয়ে তোলা হয় এবং বাংলার মানুষের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে, তাই দৃশ্যশিল্প নামে পরিচিত। বাংলার ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যশিল্পগুলো বেশির ভাগই বস্তুগত শিল্প বা সংস্কৃতি হিসেবে পরিচিত। এ শিল্পের মধ্যে রয়েছে- মৃৎশিল্প, তাঁত শিল্প, নকশাশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, কারুশিল্প, বাঁশ-বেতের কাজ, নকশিকাঁথা, শঙ্খের কাজ, মসলিন ইত্যাদি।

উদ্দীপকের কটেজটি দৃশ্যশিল্পের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, কটেজটি বেড়ার তৈরি এবং এতে বিভিন্ন স্থানীয় উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে বাঁশ- বেত ও মাটির তৈরি এসব জিনিসপত্র হলো দৃশ্যশিল্প। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত কটেজটিও দৃশ্যশিল্প।

ঘ। উদ্দীপকের শেষ অংশে যে শিল্পের ইঙ্গিত রয়েছে তা সঙ্গীত শিল্প যা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা চিরকালই সঙ্গীতের দেশ। এখানকার মাঠে প্রান্তরে কৃষক হাল চাষ করতে করতে যেমন গান বেঁধেছে, তেমনি নদী ও খালে নৌকা বাইতে বাইতে মাঝিও গলা ছেড়ে গান গেয়েছে। আবার সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের মতো করে গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করেছে।

এ সকল গানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, চিন্তা- ভাবনা, আদর্শ ফুটিয়ে তোলে। যার মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতির সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। কীর্তন গানের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মের নানা দিকের পরিচয় পাওয়া যায়। মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, গম্ভীরা ইত্যাদি নানা ধরনের আঞ্চলিক গান আমাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলে।

উদ্দীপকে রূপারা কুয়াকাটার নৌপথে ফিরে আসার সময় মাঝিদের কণ্ঠে “মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না’ গানটি শুনতে পায়। এই গানটি সঙ্গীত শিল্পকে নির্দেশ করে। আমাদের আদি সঙ্গীত চর্যাপদ ও বৈষ্ণব পদাবলীর পাশাপাশি মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি গান আমাদের সঙ্গীত শিল্প তথা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। পরিশেষে বলা যায়, সঙ্গীত শিল্প সংস্কৃতির একটা অংশ। বাংলার সঙ্গীত শিল্প সমৃদ্ধ হওয়ায় তা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন ৬: ইরা তার বাবার সাথে জাতীয় জাদুঘরে বেড়াতে গিয়ে মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখলো। রাজা-রানিদের ব্যবহার্য, বিভিন্ন তৈজসপত্র ও কাঠের কাজ করা কারুশিল্প দেখলো। তার বাবা তাকে বলল, এগুলো হলো আমাদের অতীত ঐতিহ্য। এমনকি ক্ষেত-খামারে কাজ করার সময় চাষিরা জারি-সারি গান গাইত, জেলেরা গাইত ভাটিয়ালি গান।

ক. সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি কী?
খ. প্রযুক্তি কীভাবে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে?
গ. ইরার দেখা শিল্পকর্মগুলো কোন ধরনের শিল্পের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ইরার বাবার কথায় আমাদের সংস্কৃতির মননশীলতার পরিচয় বহন করে?- মূল্যায়ন করো।

৬ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সংস্কৃতির চলমান গতিধারা এবং এক সমাজ থেকে আরেক সমাজে সংস্কৃতির প্রসার লাভ হলো সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি।

খ। আধুনিক প্রযুক্তি বা বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গোটা বিশ্ব এখন একটি বিশ্বপরিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর জানা যাচ্ছে। এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তিগত সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটছে।

গ। ইরার দেখা শিল্পকর্মগুলো দৃশ্যশিল্পের অন্তর্গত। দৃশ্যশিল্প বেশিরভাগই বস্তুগত শিল্প বা সংস্কৃতি হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী মাটি ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র এ শিল্পেরই আওতাভুক্ত। ইরার দেখা জিনিসগুলো এরই প্রতিচ্ছবি। ইরা তার বাবার সাথে জাতীয় জাদুঘরে বেড়াতে গিয়ে মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখল।

রাজা-রানিদের ব্যবহার্য বিভিন্ন তৈজসপত্র ও কাঠের কাজ করা কারুশিল্প দেখল। এগুলো দৃশ্যশিল্পকে ধারণ করে। কারণ পলিমাটিতে গড়া আমাদের এই দেশ। এদেশে একদিকে মাটি আর অন্যদিকে এ মাটিতে জন্মানো বাঁশ মানুষের ঘর ও ঘরের তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাঁশ ও মাটি দিয়ে তৈরি দোচালা “চারচালা এমনটি আটচালা ঘর এ দেশের ঐতিহ্যের পরিচায়ক। শুধু খরই নয়, মাটির তৈরি হাঁড়ি, কলসি, পানদানি, ফুলদানি আর বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা ইত্যাদি এ দেশের দৃশ্যশিল্পকে স্মরণীয় করে রেখেছে। ইরার দেখা জিনিসগুলো এ শিল্পেরই পরিচায়ক।

ঘ। ইরার বাবার কথা আমাদের সংস্কৃতির মননশীলতার পরিচয় বহন করে মন্তব্যটি সঠিক। বাঙালি সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অধিকারী একটি প্রাচীন জাতি। একটি জাতির সংস্কৃতির উপাদানগুলো যখন হৃদয়স্পর্শী হয় তখন তা সে জাতি বা দেশের মননশীলতার পরিচয় বহন করে। যেমনটি আমরা ইরার বাবার কথায় খুঁজে পাই।

আমাদের দেশের জারি-সারিগান, ভাটিয়ালি গান, আর বাঁশ ও মাটির তৈরি বিভিন্ন উপাদানকে ইরার বাবা এ দেশের ঐতিহ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তার এ মন্তব্যে এ দেশের মানুষের মননশীলতার পরিচয় মেলে। কারণ বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ। এখানকার কৃষক, জেলে, বাউল, সাধারণ মানুষ সবার মধ্যেই গানের প্রচলন ছিল এবং আছে। তাদের গানের কথা ও সুর বা প্রকাশভঙ্গি সবকিছুর মধ্যেই সুন্দর রুচিবোধের পরিচয় মেলে।

শুধু গানই নয়, আমাদের দেশের দৃশ্যশিল্পের অন্তর্গত মাটি, বাঁশ ও কাঠের তৈরি জিনিস এ দেশের মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ ঘটায়। পোড়া মাটির টেরাকোটা, কাঠের নৌকা, ঘরে ব্যবহৃত জিনিস এতোটাই শিল্প মানসম্পন্ন যে অন্য কোথাও এর জুড়িমেলা ভার। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, আমাদের দেশের দৃশ্যশিল্পসমূহ এবং সংগীত সম্ভার এ দেশের মানুষের সৌন্দর্যপ্রিয়তা ও সৃষ্টিশীলতার প্রকাশক। এ কারণে ইরার বাবার মন্তব্যটি সঠিক।

প্রশ্ন ৭: দৃশ্যকল্প-১: লিলির মা-চাচিরা শাড়ি পরলেও সে বিয়ের পর শাড়ি না পরে সালোয়ার-কামিজ পরছে। এতে সে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। চাচাত ভাইবোনদের সাথে সে একত্রে বড় হলেও লিলি তার স্বামী সন্তান নিয়ে এককভাবে থাকছে।
দৃশ্যকল্প-২: ইচলাদি গ্রামের মানুষ এখন মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের সকল সংবাদ দ্রুত সংগ্রহ করে। এর ফলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হয়েছে।

ক. সংস্কৃতি কাকে বলে?
খ. বাংলাকে সংগীতের দেশ বলা হয় কেন?
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ সংস্কৃতির যে বিষয়টির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ সংস্কৃতির পরিবর্তনের যে কারণটি নির্দেশ করছে সেটিই কি একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৭ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সমাজের মানুষের জীবন যাপনের ধারা বা জীবন-প্রণালিকে সংস্কৃতি বলে।

খ। বাংলাদেশের মাঠে-প্রান্তরে আধ্যাত্মপনায় সাহিত্য-শিল্পের আলোচনায়, উৎসবে, পালা-পার্বণে, ধর্মে সংগীতের ব্যবহার ও চর্চা হয়ে থাকে বলে বাংলাদেশ চিরকালই সংগীতের দেশ। বাংলাদেশের কৃষক হাল চাষ করতে, মাঝি নৌকা বাইতে বাইতে, গলা ছেড়ে গান গেয়ে থাকে। আমাদের আদি গ্রন্থ চর্যাপদ ও বৈষ্ণব পদাবলীও মূলত গানের সংকলন। মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি বহু ধরনের আঞ্চলিক লোকগান ছড়িয়ে আছে সারা বাংলায়। তাই বাংলাকে সংগীতের দেশ বলা হয়।

গ। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জীবন আচরণ বা সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলা হয়। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পাশ্চাত্য, ধর্মীয় ও লোক সংস্কৃতির প্রভাবে পোশাক, খাদ্যাভাস, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, সংগীত, কলা, ফ্যাশন ইত্যাদিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, লিলির মা-চাচিরা শাড়ি পরলেও সে সালোয়ার কামিজ পরে এবং স্বামী-সন্তান নিয়ে একক পরিবার গঠন করেছে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে তার মধ্যে এ ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কারণে পূর্বের যৌথ পরিবার ভেঙে এখন গ্রাম ও শহর উভয় স্থানে একক পরিবার গড়ে উঠছে। লিলির পোশাক-পরিচ্ছদে পরিবর্তন ও একক পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মূলত বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এ ধরনের বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

ঘ। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রযুক্তিগত কারণটি নির্দেশ করছে তবে এটিই সংস্কৃতির পরিবর্তনের একমাত্র কারণ নয়। পরিবর্তন সংস্কৃতির ধর্ম। সংস্কৃতির এই পরিবর্তনশীলতার কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন- সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি, সাংস্কৃতায়ন, সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ, সাংস্কৃতিক আদর্শ, প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের প্রভাব। এসব কারণে সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ ইচলাদি গ্রামের মানুষ মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত সংবাদ সংগ্রহ করে, যা মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছে। এই প্রযুক্তিগত কারণটিই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একমাত্র কারণ নয়। দুটি সমাজের সংস্কৃতির সংমিশ্রণ, অন্য সংস্কৃতির উপাদানকে নিজ সংস্কৃতিতে আত্মস্থ করার মাধ্যমেও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটে।

এছাড়া নতুন বা অন্য সংস্কৃতিকে আতীকরণ, এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হয়ে থাকে। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে অনেক উন্নত ও সহজ করেছে। যা সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, শুধু প্রযুক্তিগত কারণ নয় বরং উপরে আলোচিত বিষয়গুলোর প্রত্যক্ষ প্রভাবে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটে।

প্রশ্ন ০৮: মিতা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। চলতি বছর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার পর সে মাইকেল সংগীত একাডেমিতে গান শিখতে ভর্তি হয়। উত্ত একাডেমি তাকে সকাল-সন্ধ্যা গানের রেওয়াজ করতে বলায় সে তা যথাযথভাবে পালন করে। ফেসবুক ও ইউটিউব সে তার জনপ্রিয় গানগুলি আপলোড করে এবং শাকিরা ও জর্জ হ্যারিসনের মত শিল্পীদের গান ডাউনলোড করে আয়ত্ত করে। মিতা এখন নিজেকে আধুনিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ক. সামাজিক উন্নয়ন কী?
খ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে ব্যাখ্যা কর।
গ. মিতার ক্ষেত্রে সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অধিকতর কার্যকর কারণটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে মিতার কার্যক্রমে বিশ্বায়নের প্রভাব বিদ্যমান বিশ্লেষণ কর।

০৮ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সামাজিক উন্নয়ন হলো সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাবে সমাজের ক্রমশ পরিপূর্ণতা লাভ।

খ। আধুনিক প্রযুক্তি বা বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গোটা বিশ্ব এখন একটি বিশ্বপল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর জানা যাচ্ছে। এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তিগত সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটছে।

গ। মিতার ক্ষেত্রে সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অধিকতর কার্যকর কারণটি হলো সাংস্কৃতায়ন। সাধারণত নিজ সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজ সংস্কৃতির সাথে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়াকে সাংস্কৃতায়ন বলা হয়। আমাদের দেশ বহুবার বহিরাগত শাসক দ্বারা শাসিত হওয়ায় এখানে সাংস্কৃতায়ন প্রবল। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শই সাংস্কৃতায়ন, প্রক্রিয়ার কারণ বলে মনে করা হয়।

উদ্দীপকের মিতা বাঙালি সংস্কৃতির একটি উপাদান হিসেবে সংগীত চর্চা করে। সংগীত ভালোভাবে আত্মস্থ করার পর সে বাংলা গানের পাশাপাশি জনপ্রিয় বিদেশি তারকাদের সংগীত আত্মস্থ করে এবং সেগুলো চর্চা করে। এর মাধ্যমে মিতা নিজেকে একজন আধুনিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাই বলা যায়, মিতার মধ্যে যে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটেছে তার কারণ হলো সাংস্কৃতায়ন।

ঘ। উদ্দীপকের মিতার সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বিশ্বায়ন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ধর্মীয় সংস্কৃতি, লোকসংস্কৃতির প্রভাবও একেবারে কম নয়।

বর্তমানে বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতিতে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে যেমন যাত্রা পালাগান, সার্কাস, জারি-সারির মাধ্যমে মানুষ বিনোদনের চাহিদা পূরণ হতো, সেখানে এখন ঘরে বসে ফেসবুক, মিডিয়ার মাধ্যমে সে চাহিদা পূরণ করছে। উদ্দীপকে মিতার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে বিশ্বায়নের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

বিশ্বায়নের ফলেই আমাদের সমাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে এবং সমগ্র বিশ্বের সাথে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদেশি সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত হয়ে পড়ছে। মিতার বিদেশি গান শোনা ও গাওয়ার কারণও এই বিশ্বায়ন। সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায় যে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে বিশ্বায়নের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। বিশ্বায়নের ফলেই সমাজে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটছে। যার ফলে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে।

প্রশ্ন ০৯: তথ্য-১: ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত খেলা বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে উপভোগ করে।
তথ্য-২: এমবাপ্পে, পগবা ও গ্রিজম্যান এর মত খেলোয়াড়ের পারদর্শিতায় সবাই মুগ্ধ। এমবাপ্লের খেলোয়াড়ী কৌশল দৃষ্টান্ত হিসাবে ফুটবল খেলার কোচরা অন্য খেলোয়াড়ের মধ্যে বিস্তরণ ঘটাচ্ছেন।

ক. সংস্কৃতি কী?
খ. গ্রামীণ সমাজের দরিদ্র নারীদের টিকিয়ে রাখা শিল্পকর্মটি ব্যাখ্যা করো।
গ. তথ্য-১ দ্বারা নির্দেশিত সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অধিকতর কার্যকর কারণটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তথ্য-২ এর মাধ্যমে সমাজে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে কি? বিশ্লেষণ কর।

০৯ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণের লক্ষ্যে যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই হলো সংস্কৃতি।

খ। গ্রামীণ সমাজের দরিদ্র নারীদের টিকিয়ে রাখা শিল্পকর্মটি হলো নকশিকাঁথা। বাংলার দৃশ্যশিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নকশিকাঁথা। গ্রামীণ মহিলারা ঘরে ঘরে কাঁথা সেলাই করে তাতে আশ্চর্য নিপুণতায় গল্পকাহিনি ও ছবি ফুটিয়ে তোলেন যা নকশিকাঁথা নামে পরিচিত। এখনও গ্রামীণ সমাজের দরিদ্র নারীরা এই শিল্পকর্মটি টিকিয়ে রেখেছেন।

গ। উদ্দীপকে নির্দেশিত তথ্য-১ দ্বারা সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অধিকতর কার্যকর কারণ প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নকে তুলে ধরা হয়েছে। সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অন্যতম কারণ হলো প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। আধুনিক প্রযুক্তি বা বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। যার ফলে যোগাযোগ প্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়েছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর জানা যায়। এতে এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।

উদ্দীপকে তথ্য-১ এ বলা হয়েছে, রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলা টেলিভিশন ও ইন্টারনেট এর মাধ্যমে সারাবিশ্বের মানুষ ঘরে বসে একযোগে উপভোগ করে। এই ঘটনা উপরে বর্ণিত সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অধিকতর কার্যকর কারণ প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নকে নির্দেশ করছে।

ঘ। উদ্দীপকের তথ্য-২ দ্বারা সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অন্যতম কারণ সাংস্কৃতায়নকে নির্দেশ করা হয়েছে যার মাধ্যমে আমাদের সমাজের পরিবর্তন ঘটছে। নিজ সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজ সংস্কৃতির সাথে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়াকে সাংস্কৃতায়ন বলা হয়।

আমাদের দেশ বহুবার বহিরাগত শাসক দ্বারা শাসিত হওয়ায় এখানে সাংস্কৃতায়ন প্রবল। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শকেই সাংস্কৃতায়ন প্রক্রিয়ার কারণ বলে মনে করা হয়। যেমন: ইংরেজরা প্রায় দুইশ বছর আমাদের শাসক ছিলো বলে অনেক ইংরেজি শব্দ আমাদের ভাষায় মিশে গেছে। এখনো এই ধারা চলমান রয়েছে। উদ্দীপকে তথ্য-২ এ বলা হয়েছে, এমবাপ্পে, পগবা ও গ্রিজম্যান এর খেলায় পারদর্শিতায় সবাই মুগ্ধ।

এমবাপ্পের খেলোয়াড়ী কৌশল দৃষ্টান্ত হিসেবে ফুটবলের কোচরা অন্য খেলোয়াড়ের মধ্যে বিস্তরণ ঘটাচ্ছে। এক্ষেত্রে অন্য খেলোয়াড়রা নিজস্ব ধরন অক্ষুণ্ণ রেখে এমবাপ্পের কৌশল আয়ত্ব করছে যা সাংস্কৃতায়নকে নির্দেশ করছে। আর এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হচ্ছে। তাই বলা যায়, তথ্য-২ এ নির্দেশিত সাংস্কৃতায়নের মাধ্যমে আমাদের সমাজে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন চলমান রয়েছে।


আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক, গল্পের বই সহ যে কোন পিডিএফ ডাউনলোড করতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ। এছাড়াও আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে ফেসবুকে কানক্ট থাকতে পারেন।

Scroll to Top