সিরাজউদ্দৌলা নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর

আপনি কি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর খুজতেছেন? আজকের আর্টিকেল টি আপনার জন্য। আজকের আর্টিকেলে বোর্ড পরিক্ষা সহ বিভিন্ন পরিক্ষায় আসা সিরাজউদ্দৌলা নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হবে। আর্টিকেল টি শেষ অব্দি পড়ুন।


সিরাজউদ্দৌলা নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন-১. ‘আশা করি নবাব আমাদের উপরে অন্যায় জুলুম করবেন না’ – হলওয়েলের নবাবের প্রতি এ বিশ্বাসের কারণ কী?

উত্তর: হলওয়েল ইংরেজদের হয়ে যুদ্ধ করায় নবাব তার এ অন্যায়ের উপযুক্ত শাস্তির জন্য তৈরি হতে বলেন। শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় সে এ বক্তব্য দেয়। নবাব বাহিনী ইংরেজ সৈন্যদের ঔদ্ধত্যের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে হামলা চালালে ইংরেজ বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ক্যাপ্টেন ক্লেটনসহ সেনা কর্মকর্তাদের অনেকেই প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যায় দুর্গ থেকে। ইংরেজ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সার্জন হলওয়েল। এমন সময় সিরাজউদ্দৌলা সসৈন্যে ইংরেজ দুর্গে ঢুকে তাচ্ছিল্যের সুরে হলওয়েলকে বলেন— কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার রাতারাতি সেনাধ্যক্ষ হয়ে বসেছে। নবাব হলওয়েলকে তার কৃতকার্যের উপযুক্ত প্রতিফল নেওয়ার জন্য তৈরি হতে বললে তোষামুদি ঘরে হলওয়েল উদ্ধৃত আবেদন জানায়।

প্রশ্ন-২. ইংরেজ সৈন্যরা তাদের দুর্দশার জন্য ড্রেককে দায়ী করল কেন?

উত্তর: ইংরজে সৈন্যদের ধারণা ড্রেকের ভুল পদক্ষেপের কারণেই তারা দুর্দশায় পতিত হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর তাড়া খেয়ে ইংরেজ সেনাদল পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ভাগীরথীর জলে ভাসমান জাহাজে। কলকাতার গভর্নর রজার ডেকও কাপুরুষের মতো ভয়ে সেখানে পালিয়ে গেছেন। জাহাজে আশ্রয়রত সকলের অবস্থা পানীয়, খাদ্য ও নিরাপত্তার অভাবে উৎকণ্ঠায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এরকম পরিস্থিতিতে সকলেই ড্রেককে দায়ী করেছে।

প্রশ্ন-৩. ‘লোকবল বাড়ুক আর না বাড়ুক আমাদের অংশীদার বাড়ল তা অবশ্য ঠিক।’ হ্যারি এ কথা বলেছিলেন কেন?

উত্তর: নবাবসৈন্য কর্তৃক তাড়া খেয়ে ভাগীরথী নদীতে ভাসমান জাহাজে বসে নিজেদের চরম দুরবস্থা এবং অভাব প্রসঙ্গে মার্টিন ও ড্রেককে উদ্দেশ করে হ্যারি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন। জাহাজে অবস্থানরত কোম্পানির সৈন্যদের দুরবস্থার মধ্যেও মাদ্রাজ থেকে ফিরে এসে কিলপ্যাট্রিক সংবাদ দিয়েছেন নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সেখান থেকে বেশ কিছু সৈন্য শীঘ্রই জাহাজে করে কলকাতায় পৌছবে। একথা শুনে ড্রেক ব্যতীত কেউ খুশি হতে পারেন না। যে ক’জন সৈন্য আসবে, তারা আদৌ কোনো লোকবল বৃদ্ধি করাবে না বরং উল্টো তারা খাদ্য সংকট সৃষ্টি করবে। এ সংলাপের মাধ্যমে ইংরেজদের দুরবস্থার স্বরূপ এবং হ্যারির মননশীল কৌতুকপ্রবণতার পরিচয় একসঙ্গেই পাওয়া যায়।

প্রশ্ন-৪. ‘সে নবাবি পেলে প্রকারান্তরে আপনারাই তো দেশের মালিক হয়ে বসবেন’—উক্তিটি বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের উদ্ধৃত উক্তিটি করেছিলেন নবাবের বড় খালা ঘসেটি বেগম। সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে শওকতজঙ্গকে নবাব বানালে জগৎশেঠ বিনিময়ে কী পাবেন সে বিষয়ে তার দ্বিধা রয়েছে। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের নেতৃত্বদানকারী ঘসেটি বেগমের কাছে তিনি জানতে চান, “শওকতজঙ্গ নবাব হলে আমি কী পাব আমাকে পরিষ্কার করে বলুন?’ জগৎশেঠের প্রশ্নের উত্তরেই ঘসেটি বেগম আলোচ্য উক্তি করেছিলেন।

প্রশ্ন-৫. কুঠির সাহেবরা জনৈক প্রজাকে অত্যাচার করেছে কেন?

উত্তর: জনৈক এক প্রজা ইংরেজ ইজারাদারের কাছে কম দামে লবণ বিক্রি করতে চায়নি বলে তার ওপর কুঠির সাহেবেরা নিষ্ঠুর অত্যাচার করে। ইংরেজরা ইজারাদারির মাধ্যমে এদেশে লবণের ব্যবসায় করত। তারা স্থানীয় শাসকদের যাবতীয় লবণ তিন চার আনা মণ দরে পাইকারি হিসেবে কিনে সেখানে বসেই স্থানীয় লোকদের কাছে দুই টাকা আড়াই টাকা মণ দরে বিক্রি করত। জনৈক প্রজা কম দামে লবণ বিক্রি না করায় কুঠিয়ালের লোকেরা তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়, তার নখের ভেতর খেজুর কাঁটা ফুটিয়ে দেয় এবং তার গর্ভবতী বউকে মেরে ফেলে।

প্রশ্ন-৬. কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসূকে সিরাজউদ্দৌলা কেন অভিযুক্ত করেছিলেন?

উত্তর: কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস্‌স্কে সিরাজউদ্দৌলা প্রজাদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ ও অত্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। জনৈক প্রজা অল্প মূল্যে কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে লবণ বিক্রি না করায় কোম্পানির লোকজন তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, পাঁচ- ছয়জন মিলে তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে অত্যাচার করে হত্যা করেছে। অত্যাচার আর নিষ্ঠুরতার এ বিবরণ শুনে নবাব সভা ডেকে কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

প্রশ্ন-৭. সভাসদ এবং কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস্ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে কেন ক্ষিপ্ত হলেন?

উত্তর: জনৈক প্রজার অত্যাচারের জন্য সিরাজউদ্দৌলা প্রকাশ্য দরবারে সভাসদ ও কোম্পানির প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের জন্য তাঁরা সকলেই ক্ষিপ্ত হলেন। সিরাজউদ্দৌলা গুপ্তচর মারফত জানতে পেরেছেন তাঁর প্রজাদের ওপর কোম্পানির লোক কর্তৃক নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করা হচ্ছে। জনৈক এক প্রজা কোম্পানির লোকের কাছে কম মূল্যে লবণ বিক্রি না করায় তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং তার গর্ভবতী বউকে মেরে ফেলে। নবাব নিষ্ঠুরতার এ বিবরণ শুনে প্রকাশ্য দরবারে সভাসদ ও কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে জবাব চাইলে তাঁরা নবাবের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হন।

প্রশ্ন-৮. সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা রক্ষায় মিরজাফরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন কেন?

উত্তর: দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়ায় দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মিরজাফরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীন নবাব। দেশমাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তিনি মিরজাফর ও অন্যান্য সেনাপতি এবং পারিষদদের নিজেদের পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আবার দেশের কল্যাণে সংঘবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক সংকটে সিরাজউদ্দৌলার উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রজ্ঞারই পরিচয়।

প্রশ্ন-৯. নবাবের প্রতি ক্লাইডের ভয় না থাকার কারণ কী?

উত্তর: নিজের চতুরতা এবং কৌশলী মনোভাবের কারণে নবাবের প্রতি ক্লাইডের কোনো ভয় নেই। সতেরো বছর বয়সে ভারতবর্ষে আগত ক্লাইভ ফরাসি এবং মারাঠাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে সঞ্চয় করেন প্রকৃত অভিজ্ঞতা। সম্মুখযুদ্ধের চেয়ে নেপথ্য যুদ্ধ যে অনেক কার্যকর তা ধূর্ত ক্লাইভ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন। পলাশির যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর পারিষদবর্গের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন। এসব থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজের কৌশলী মনোভাবের কারণেই ক্লাইভের মনে কোনো ভয় নেই।

প্রশ্ন-১০. ঘসেটি বেগম কেন বলেছেন, “বসতে আসিনি দেখতে এলাম কত সুখে আছ তুমি।’

উত্তর: ঘসেটি বেগমের রাজমাতা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তিনি ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন। নিঃসন্তান ঘসেটি বেগমের অভিলাষ ছিল ছোটবোন আমিনার মধ্যমপুত্র একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করে রাজমাতা হওয়ার। কিন্তু বসন্তরোগে একরামউদ্দৌলার মৃত্যুর সাথে সাথে তার সেই আশা-নিরাশায় পরিণত হয়। এছাড়া তার প্রিয়ভাজন সেনাপতি হোসেন কুলি খাঁকে আলিবর্দির নির্দেশে হত্যা ও তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য গুপ্তচর নিয়োগ করায় সিরাজউদ্দৌলার প্রতি তিনি ছিলেন প্রতিহিংসাপরায়ণ। তাই ছোট বোন আমিনার রাজমাতা হওয়ার সৌভাগ্যে ঈর্ষাকাতর ঘসেটি বেগম এ উক্তিটি করেছেন।

প্রশ্ন-১১. ‘অদৃষ্টের পরিহাস তাই ভুল করেছিলাম’— ঘসেটি বেগম কেন এ কথা বলেছেন?

উত্তর: সিরাজউদ্দৌলার মসনদে বসার বিষয়টি ঘসেটি বেগম মনেপ্রাণে মেনে না নেওয়ায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। প্রতিহিংসাপরায়ণ ঘসেটি বেগম নবাব প্রসঙ্গে নবাবের মাতা আমিনা বেগমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এ উক্তিটি করেন। তাঁর এ উক্তির বিপরীতে তাঁকে শান্ত করার জন্য আমিনা বলেন যে, “নবাব সিরাজ তোমারও পুত্র। তুমিও কোলে-পিঠে করে তাকে মানুষ করেছ।’ আমিনার এ উক্তিটির জবাবেই ঘসেটি বেগম বলেছেন, ‘যদি জানতাম তাহলে দুধের শিশু সিরাজউদ্দৌলাকে প্রাসাদ চত্বরে আছড়ে মেরে ফেলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করতাম না।

প্রশ্ন-১২. ‘সিরাজ আমার কেউ নয়’— ঘসেটি বেগম কেন এ কথা বলেছেন?

উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ায় তাঁর প্রতি প্রচণ্ড আক্রোশ ও বিদ্বেষ থেকে ঘষেটি বেগম প্রশ্নোত্ত উক্তি করেছেন। ঘসেটি বেগম ছোটবেলায় সিরাজউদ্দৌলাকে স্নেহ, আদর ও কোলে- পিঠে করে মানুষ করেছিলেন। নিজের স্বার্থের অন্তরায় হওয়ার কারণে ঘসেটি বেগমের অন্তরে আর কোনো স্নেহ অবশিষ্ট নেই। তিনি এখন সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যু চান, তিনি তাই ষড়যন্ত্রকারীদের দলে যোগ দিয়েছেন। ঘসেটি বেগমের এ উক্তিতে তার নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোড ও হীনম্মন্যতা তীব্রভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রশ্ন-১৩. যুদ্ধের শেষদিকে মোহনলাল সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদ যেতে বলেন কেন?

উত্তর: যুদ্ধের শেষদিকে নবাবের পক্ষের পরাজয় ঘনিয়ে আসছে দেখে দেশপ্রেমী মোহনল৷ল সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদ যেতে বলেন। মোহনলাল যুদ্ধের ব্যর্থ পরিণতি উপলব্ধি করে শেষদিকে ফিরে আসেন নবাব শিবিরে। তিনি নবাবকে জানান যে, মিরজাফর ইংরেজদের সাথে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। এ অবস্থায় নবাব যেন মুর্শিদাবাদ চলে গিয়ে পুনঃপ্রস্তুতি নেন শত্রু মোকাবিলায়। দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মোহনলাল দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়েই সিরাজউদ্দৌলাকে উদ্ধৃত অনুরোধটি করেছিলেন।

প্রশ্ন-১৪. ‘গুপ্তচরের কাজ করেছি দেশের স্বাধীনতার খাতিরে।’ রাইসুল জুহালা কেন এ মন্তব্যটি করেছেন?

উত্তর: দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নবাবের পক্ষে ছদ্মবেশে নারাণ সিং নামে রাইসুল জুহালা গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করেন। যখন নবাবের বিশ্বস্ত গুপ্তচর রাইসুল জুহালা ওরফে ছদ্মবেশী নারাণ সিংকে ক্লাইভ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে, তখন গুলিবিদ্ধ নারাণ বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে সিরাজউদ্দৌলার এসব অমাত্যকে অভিযুক্ত করে বলেছিলেন যে, তাদের বেইমানি ও মোনাফেকির চেয়ে এ মৃত্যু শ্রেয়। কারণ তিনি মারা যাচ্ছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য।

প্রশ্ন-১৫. ‘এই প্রাণদান আমরা ব্যর্থ হতে দেব না।’ উক্তিটির ভাবার্থ কী?

উত্তর: পলাশির প্রান্তরে নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রাণদান ব্যর্থ হতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা উক্তিটি করেছিলেন। পলাশিতে যুদ্ধের নামে হয়েছে শুধু প্রতারণা আর অভিনয়। মুষ্টিমেয় দেশপ্রেমী তাতে প্রাণ দিয়েছেন। পুনরায় যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করে বীরদের এহেন প্রাণদানকে নবাব অর্থবহ করে তুলতে চান। দেশের জন্য যাঁরা শহিদ হয়েছেন তাঁদের আত্মত্যাগকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মহিমান্বিত করে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রশ্ন-১৬. ‘কেউ নেই, কেউ আমার সঙ্গে দাঁড়াল না লুৎফা।’ লুৎফার কাছে সিরাজউদ্দৌলার এ আকুতির কারণ কী?

উত্তর: বিপদকালে বিপন্ন নবাবের কাছে কেউ না দাঁড়ালে হঠাৎ প্রকাশ্য দরবারে লুৎফার আগমনে হতাশ, বিহ্বল ও নিঃসঙ্গ নবাব এ আকুতি করেছেন। রাজধানী রক্ষার জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান উপেক্ষা করে দরবারে সমাগত নাগরিকবৃন্দ নবাবকে ফেলে রেখে একে একে চলে গেছে। হাতে মুখ ঢেকে হতাশাবিহ্বল নিঃসঙ্গ নবাব দরবারে নিজ আসনে বসে আছেন। এ সময়েই প্রথা লঙ্ঘন করে প্রকাশ্য দরবারে উপস্থিত হয়েছেন নবাবের সহধর্মিণী লুৎফুন্নেসা। বিপদে বিপন্ন নবাবের পাশে যখন কেউ দাঁড়াল না তখন সেখানে আকস্মিকভাবে লুৎফার আগমন নিঃসঙ্গ নবাবকে করেছে সচকিত।

প্রশ্ন-১৭. ‘আমাকে খুন করে ফেলো আমাকে খুন করে ফেলো’— উমিচাঁদ এ কথা বলেছিলো কেন?

উত্তর: প্রতারণার শিকার উমিচাদ চুক্তির অর্থ না পেয়ে উন্মাদের মতো একথা বলেছিলেন। উমিচাঁদ নবাবের বিরুদ্ধাচরণ এবং ইংরেজদের সাহায্য করতে এ শর্তে রাজি হয়েছিলেন যে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে তাঁকে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে তাঁর এ চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু পরে ক্লাইভ এ চুক্তির টাকা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন উমিচাঁদ উন্মাদের মতো বলেছিলেন, ‘ম্যাড বানিয়েছ, এখন খুন করে ফেল।’

প্রশ্ন-১৮. মিরন সিরাজউদ্দৌলাকে মোহাম্মদি বেগকে দিয়ে হত্যা করিয়েছিল কেন?

উত্তর: মদ্যপ ও নারীলোলুপ মিরন ক্ষমতার লোভে মোহাম্মদি বেগকে দিয়ে সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করিয়েছিল। অন্ধকার কারাকক্ষে হতভাগ্য নবাব যখন সামান্য আলোর পরশ পেতে লুৎফা ও বাংলার মানুষের জন্য শুভ কামনা করছিলেন, তখন মিরন মোহাম্মদি বেগকে নিয়ে কারাকক্ষে প্রবেশ করে। মিরনের ধারণা সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে দিলেই ক্ষমতা নিষ্কণ্টক হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার এ আশা নিরাশায় পরিণত হয়।

DOWNLOAD PDF


আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল শ্রেণির প্রশ্নোত্তর ও সাজেশন পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ। এছাড়াও আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে ফেসবুকে কানেক্ট থাকতে পারেন।