লখার একুশে গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

লখার একুশে গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

লখার একুশে গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর: ‘লখার একুশে’– রূপকধর্মী এ গল্পটিতে একুশে ফেব্রুয়ারির অবিনাশী চেতনার কথা বর্ণিত হয়েছে। অতি সাধারণ এক কিশোর লখা। সে কথা বলতে পারে না।

জন্ম থেকেই সে বোবা কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। লখা উঁচু ডালে উঠে বহু কষ্টে লাল ফুল সংগ্রহ করে শহিদ মিনারে যায় শ্রদ্ধা নিবেদন করতে।


লখার একুশে গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১। প্রভাতফেরি বলতে কী বোঝ?
উত্তর: প্রভাতফেরি হলো একুশে ফেব্রুয়ারির সকালবেলার বিশেষ অনুষ্ঠান। সাধারণত ভোরবেলায় দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় গান গেয়ে সবাইকে জাগিয়ে তোলার অনুষ্ঠানকে প্রভাতফেরি বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এটি একটি বিশেষ অর্থ বহন করে। ১৯৫২ সালের ভাষার জন্য সংগ্রামের মিছিলে শহিদ হওয়া, রফিক, সালাম, বরকত জব্বারসহ অনেকের স্মরণে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করা হয়

প্রশ্ন ২। ‘সেদিন সকাল ছিল বড় আশ্চর্য সুন্দর।’- কোন দিনের সকালের কথা বলা হয়েছে? বর্ণনা কর।
উত্তর: এখানে একুশে ফেব্রুয়ারির স্নিগ্ধ সকালের কথা বলা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই শহিদ হন। সেই শহিদ ভাইদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একুশে ফেব্রুয়ারির সকালবেলায় শত শত মানুষ হাতে ফুল নিয়ে প্রভাতফেরির গান গাইতে গাইতে ধীর পায়ে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায়। ‘লখার একুশে’ গল্পের লখাও যায় ফুল দিতে শহিদ মিনারে সেদিন সকাল ছিল বড় আশ্চর্য সুন্দর ।

প্রশ্ন ৩। লখা ডোর রাতে মায়ের পাশ থেকে উঠে দাঁড়ালো কেন?
উত্তর: ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত লখা ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর ফুল সংগ্রহের জন্য ভোররাতে মায়ের পাশ থেকে উঠে পড়ে। একুশে ফেব্রুয়ারির ভোররাতে লখা মাকে ফাঁকি দিয়ে চুপি চুপি শীতের রাতে বেরিয়ে পড়ে। কাঁটার যন্ত্রণা উপেক্ষা করে লখা গাছের মগডাল থেকে লাল টুকটুকে ফুল পেড়ে শহিদ মিনারে যায় সবার সঙ্গে ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে।

প্রশ্ন ৪। লখার দিন কীভাবে কাটে?
উত্তর: কিশোর লখার দিন কাটে গুলি খেলে ও কাগজ কুড়িয়ে। লখাকে যত্ন নেওয়ার কেউ নেই। বাবাকে সে দেখেনি, আর মা সারাদিন ভিক্ষা করে। তাই লখার দিন কাটে গুলি খেলে, ছেঁড়া কাগজ কুড়িয়ে, বন্ধুদের সাথে মারামারি করে আর খাবারের দোকানের এঁটোপাতা চেটে।

প্রশ্ন ৫। ‘আঁ আঁ বলে কেঁদে দেয় লখা।’- কেন?
উত্তর: কাঁটার বিষের অসহ্য যন্ত্রণায় লখা আঁ আঁ বলে কাঁদে। একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ফুল দেবে বলে লখা ভোররাতে মায়ের কাছ থেকে উঠে পড়ে। ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশা, মস্ত নিচু খাদ, অন্ধকার বনজঙ্গল, ফুলগাছের কাঁটা— সবকিছু উপেক্ষা করে লখা শিশিরে ভেজা তুলতুলে, তুলোমিঠের মতো রক্তলাল ফুলের গুচ্ছ পেড়ে আনে। পথিমধ্যে তার পায়ে খচ করে কাঁটা ফুটে যায়। কাঁটার বিষের অসহ্য যন্ত্রণায় তাই সে আঁ আঁ শব্দে কেঁদে দেয়।

প্রশ্ন ৬। “এখন ওই উপরের এক থোকা ফুল তার পেড়ে আনা চাই।”— এই ফুল কার দরকার এবং কেন?
উত্তর: ওই উপরের এক থোকা ফুল শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের জন্য লখার দরকার। একুশের ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণের জন্য লখা অনেক কষ্ট আর বাধা সহ্য করে ফুল তোলার জন্য গাছটার নিচে এসে দাঁড়ায়। গাছের মগডালে থাকা লাল টুকটুকে ফুলগুলোকে দেখে লখার নয়ন ভরে যায়। তাই এখন যেভাবেই হোক, সেই ফুলগুলো থেকে সে এক থোকা ফুল পেড়ে আনবেই।

প্রশ্ন ৭। ‘বাইরে শব্দ হয় — আঁ আঁ আঁ আঁ — লাইনটিতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বাঙালির গর্বের উচ্চারণ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ আঁ আঁ আঁ আঁ শব্দে লখার মুখে উচ্চারিত হয়েছে। লখা উঁচু ডালে উঠে ফুল সংগ্রহ করে গর্বের সঙ্গে শহিদ মিনারে নিয়ে যায় শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। বোবা হলেও সে আঁ আঁ আঁ আঁ বনি উচ্চারণ করে। তাঁর ঐ ধ্বনির মধ্য দিয়ে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটিকে বোঝানো হয়েছে।


🔆🔆 আরও দেখুন: লখার একুশে গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
🔆🔆 আরও দেখুন: লখার একুশে গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
🔆🔆 আরও দেখুন: লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক, গল্পের বই সহ যে কোন পিডিএফ ডাউনলোড করতে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের যে কোন আপডেট মিস করতে না চাইলে ফেসবুক ও ইউটিউবে সাবক্রাইব করে আমাদের সাথে কানেক্ট থাকতে পারেন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।