রেইনকোট গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

রেইনকোট গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

রেইনকোট গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর: ‘রেইনকোট’ গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। পরে এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’ (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। এ গল্পের পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনাসমগ্র ১ থেকে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে গল্পটি রচিত।

মুক্তিযুদ্ধের তখন শেষ পর্যায়। ঢাকায় তখন মুক্তিযােদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ শুরু হয়েছে। তারই একটি ঘটনা এ গল্পের বিষয়; যেখানে ঢাকা কলেজের সামনে গেরিলা আক্রমণের ফলে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কলেজের শিক্ষকদের তলব করে এবং তাদের মধ্য থেকে নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিযােদ্ধাদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করে। নুরুল হুদার জবানিতে গল্পের অধিকাংশ ঘটনা বিবৃত হয়েছে। বিবৃত হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র।

গেরিলা আক্রমণের ঘটনা ঘটে যে রাতে, তার পরদিন সকালে ছিল বৃষ্টি। তলব পেয়ে সেই বৃষ্টির মধ্যে নুরুল হুদাকে কলেজে যেতে যে রেইনকোটটি পরতে হয় সেটি ছিল তার শ্যালক মুক্তিযােদ্ধা মন্টুর। রেইনকোট গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

গল্পে এই রেইনকোটের প্রতীকী তাৎপর্য অসাধারণ। মুক্তিযােদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে সাধারণ ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম— তারই ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।


রেইনকোট গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. ‘রেইনকোট’ গল্পে ‘মিসক্ৰিয়ান্ট’ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: ‘রেইনকোট’ গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের বোঝাতে ‘মিসক্রিয়ান্ট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মিসক্রিয়ান্ট’ শব্দের আভিধানিক অর্থ দুষ্কৃতকারী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকার এবং পাকবাহিনী এই শব্দটি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যে ব্যবহার করেছে। আর এ বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে ‘রেইনকোট’ গল্পে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রশ্ন-২. ‘ক্যাপ্টেনের এদিকে তাকে ঠেলা মুশকিল’— কেন?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসহাক মিয়ার দাপট খুব বেশি বেড়ে যাওয়ায় ‘ক্যাপ্টেনের এদিকে তাকে ঠেলা মুশকিল’— এ কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসহাক মিয়া পাকিস্তানিদের পক্ষ অবলম্বন করায় তার দাপট খুব বেড়ে গিয়েছিল। সে নিজেকে কর্নেলের মতো ক্ষমতাবান ভাবতে শুরু করে। তাই তাকে কর্নেল বা লেফটেন্যান্ট কর্নেল বা ক্যাপ্টেন ভাবা যায়। কিন্তু ক্যাপ্টেনের নিচের পদে তাকে ভাবা যায় না।

প্রশ্ন-৩. নুরুল হুদাকে এক্সট্রা তটস্থ থাকতে হয় কেন?
উত্তর: নুরুল হুদার শ্যালক মিন্টু মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে বলে নুরুল হুদাকে এক্সট্রা তটস্থ থাকতে হয় । নুরুল হুদা অত্যন্ত ভীরু প্রকৃতির মানুষ। তিনি দেশকে খুব ভালোবাসেন কিন্তু ভয়ে প্রকাশ করতে পারেন না। কিন্তু তাঁর শালা মিন্টু একজন মুক্তিযোদ্ধা- একথা হানাদার বাহিনী জানতে পারলে তাঁকে খুব বিপদে পড়তে হবে, এ ভয়ে তিনি সবসময় তটস্থ থাকেন।

প্রশ্ন-৪, ইসহাক মিয়ার দাপট বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের পক্ষ অবলম্বন করায় ইসহাক মিয়ার দাপট বেড়ে গিয়েছিল ইসহাক মিয়া ছিল পাকিস্তানিদের দোসর। সে অবাধে চলাফেরা করত এবং সবসময় উর্দুতে কথা বলত। আর পাকিস্তানিদের দোসর হওয়ায় সবাই তাকে খুব ভয় পেত। এভাবেই তার দাপটও বেড়ে যায়।

প্রশ্ন-৫. প্রিন্সিপাল কেন দিনরাত দোয়া-দরুদ পড়ছেন?
উত্তর: পাকিস্তানের কল্যাণ কামনায় প্রিন্সিপাল দিনরাত দোয়া-দরুদ পড়ছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রিন্সিপাল পাকিস্তানিদের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তাই তিনি সর্বদা তাদের মঙ্গল কামনা করতেন। আর তাদের জয়ের জন্যে দিনরাত দোয়া- দরুদ পড়তেন।

টেকনোলজি বিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

প্রশ্ন-৬. ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নুরুল হুদা ভ্যাবাচ্যাকা খান কেন?
উত্তর: রেইনকোটটি পরে তাঁকে দেখতে অনেকটা মিন্টুর মতো লাগছিল বলে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নুরুল হুদা ভ্যাবাচ্যাকা খান। মিন্টু ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তাই নুরুল হুদাকে যদি দেখতে তার মতো লাগে তাহলে তাঁকে খুব বিপদে পড়তে হবে। তাই ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে যখন তিনি দেখেন তাঁকে দেখতে মিন্টুর মতোই লাগছে, তখন তিনি ভ্যাবাচ্যাকা খায়।

প্রশ্ন-৭. নুরুল হুদা কেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাটের নিচে শুয়ে ছিলেন?
উত্তর: মিলিটারিদের ভয়ে নুরুল হুদা পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাটের নিচে শুয়ে ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশবাসীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে নিরুপায় মানুষগুলো নানা কৌশল অবলম্বন করেছিল। আর তাই নুরুল হুদা রাতভর ট্যাঙ্কের হুংকার, মেশিনগান আর স্টেনগানের প্রচণ্ড শব্দে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাটের নিচে শুয়ে ছিলেন।

প্রশ্ন-৮. ‘পিওননে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ইচ্ছা হচ্ছে’— উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।?
উত্তর: দরজা খুলে মিলিটারির পরিবর্তে প্রিন্সিপালের পিওনকে দেখে প্রবল স্বস্তি অনুভব করায় নুরুল হুদার মনে হয় পিওনকে জড়িয়ে ধরে চুমো খেতে। দরজায় প্রবল কড়া নাড়ার শব্দ নূরুল হুদার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছিল । মিলিটারি আসার জোরালো আশঙ্কায় প্রচণ্ড ভয়ে কাঁপতে থাকেন তিনি। মনে মনে পড়তে থাকে দোয়া-দরুদ। কিন্তু দরজা খুলে দেখেন মিলিটারি নয় এসেছে কলেজের প্রিন্সিপালের পিওন। মুহূর্তে মন থেকে মহা দুর্ভাবনার কালো মেঘ কেটে যায়। খুশিতে তাঁর ইচ্ছা করে পিওনকে জড়িয়ে ধরে চুমো খেতে।

প্রশ্ন-৯. “ক্যাপটেনের এদিকে তাকে ঠেলা মুশকিল”— কথাটি কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: ইসহাক মিয়ার ক্ষমতার দাপট বোঝাতে আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে। ইসহাক মিয়া কলেজের প্রিন্সিপালের পিওন। অথচ কলেজে পাকিস্তানি মিলিটারির ক্যাম্পকরার পর থেকে এই পিওনের ভয়েই সবাই অস্থির। কেননা সে মিলিটারিদের আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কথায় কথায় উর্দু বলে। মিলিটারি কর্ণেল কলেজে ইসহাক মিয়ার ক্ষমতাও যেন কর্ণেলের সমান হয়ে যায়। অতটুকু না হলেও ক্যাপ্টেন পদের নিচে তাকে কোনোভাবেই ভাবা যায় না। এতটাই তার প্রভাব।

প্রশ্ন-১০. নুরুল হুদাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কেন তলব করেছে?
উত্তর: মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী সন্দেহে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নুরুল হুদাকে তলব করেছে। মুক্তিযুদ্ধ যখন শেষের দিকে তখন মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকায় গেরিলা আক্রমণ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গেরিলারা ঢাকা কলেজের সামনে গেরিলা আক্রমণ করে। এরই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি সেনারা কলেজের শিক্ষকদের তলব করে। নুরুল হুদাকেও তারা এভাবে তলব করে। মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী সন্দেহে তাদের সন্ধান লাভের জন্যে নুরুল হুদাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তলব করেছে।

প্রশ্ন-১১. মিন্টু কেন বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্যে মিন্টু বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদেশে পাকিস্তানি হানাদাররা ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালায়। বিবেকবোধসম্পন্ন কোনো সন্তান তখন ঘরে বসে থাকতে পারেনি। দেশের সম্মান রক্ষার্থে তারা তখন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে। ‘রেইনকোট’ গল্পের মিন্টুও ঠিক এ কারণেই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মিন্টু বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল।

প্রশ্ন-১২. প্রিন্সিপাল সাহেব শহিদ মিনারকে পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা মনে করেন কেন?
উত্তর: শহিদ মিনার বাঙ্গালির জাতীয়তাবাদী চেতনার অনন্য স্মারক বলে পাকিস্তানপন্থী প্রিন্সিপাল সাহেব একে পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা মনে করেন। শহিদ মিনার মূলত ভাষা আন্দোলনে নিহত শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে নির্মিত। ফলে এগুলো পাকিস্তানপন্থিদের কাছে ছিল কাঁটার মতো। তাই পাকিস্তানপন্থি প্রিন্সিপাল পাকিস্তানের পাক সাফ শরীরটাকে নীরোগ করার জন্যে স্কুল-কলেজ থেকে শহিদ মিনার হটানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। জাতীয়তাবাদী চেতনার স্বারক বলেই প্রিন্সিপাল এমন ভাবনা পোষন করতেন।

প্রশ্ন-১৩. দেশে একটা কলেজ ও শহিদ মিনার অক্ষত নেই কেন?
উত্তর: পাকিস্তানিদের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দেশে একটা কলেজ ও শহিদ মিনার অক্ষত নেই। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ঢাকা শহরের চিত্রটিও ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও লোমহর্ষক। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতিকে চিরতরে সাহ করার জন্যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। মুক্তিযুদ্ধের শেষান্তে ঢাকা হয় নরপিশাচদের প্রধান শিকার। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য ও ঐতিহ্য নস্যাৎ করার জন্যে ব্যাপক পরিকল্পনা করে হানাদাররা। একপর্যায়ে কলেজে ও শহিদ মিনারে হামলা চালায়। হামলার ধ্বংস চিহ্ন লেগে থাকে কলেজে ও শহিদ মিনারে। তাই বলা হয়েছে, নরপশু পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দেশে একটা কলেজ ও শহিদ মিনারও অক্ষত নেই।

প্রশ্ন-১৪. ‘আব্বু ছোট মামা হয়েছে’— ছোট্ট মেয়ের এ উক্তিতে প্রফেসর কেন চমকে উঠেন?
উত্তর: নিজেকে দেখতে মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর মতো লাগছে ভেবে ছোট্ট মেয়ের উত্তিতে প্রফেসর চমকে উঠেন। বৃষ্টির মধ্যে বাইরে যাচ্ছেন দেখে স্ত্রী আসমা নুরুল হুদাকে মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট পরতে দেন। নুরুল হুদা বিপদ ও ঝুঁকি এড়িয়ে চলা একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিলে তাঁর মাঝে ভিন্ন ধরনের সাহসী অনুভূতি সঞ্চার হয়। তাই ছোট মেয়েটোর মুখে আলোচ্য উক্তিটি শুনে তিনি চমকে যান।

প্রশ্ন-১৫. ‘এগুলো হলো পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা’— উক্তিটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ভাষাশহিদদের স্মরণে নির্মিত শহিদ মিনার সম্পর্কে পাকিস্তানিদের দোসর প্রিন্সিপাল আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন। ‘রেইনকোট’ গল্পে বর্ণিত প্রিন্সিপাল কট্টর পাকিস্তানপন্থি। শিক্ষিত বাঙালি মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি বাঙালি জাতীয়তার বিরোধিতা করেন। বাঙালিদের ওপর নানারকম নির্যাতন চালাতে তিনি পাকবাহিনীকে পরামর্শ দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীকে দেশের সকল শহিদ মিনার ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে শহিদ মিনার বাঙালিকে উজ্জীবিত করে, তাই এগুলো পাকিস্তানের শরীরের কাঁটা।

প্রশ্ন-১৬, নুরুল হুদার স্ত্রী কেন বাড়ি পাল্টানোর জন্যে হন্যে হয়ে লেগে গেলেন?
উত্তর: পাশের ফ্ল্যাটের গোলগাল মুখের মহিলা নুরুল হুদার স্ত্রীকে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বাড়ি পাল্টানোর জন্যে হন্যে হয়ে লেগে গেলেন। নুরুল হুদার শ্যালক মিন্টু একজন মুক্তিযোদ্ধা। অন্যদিকে নুরুল হুদা ও তাঁর স্ত্রী ভীতু প্রকৃতির সাধারণ মানুষ। মিন্টুর ব্যাপারে তাঁরা সবসময়ই তটস্থ থাকেন। মিন্টুকে নিয়ে কেউ বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখালেই তাঁরা ভয় পেয়ে যান। তাই পাশের ফ্ল্যাটের মহিলা যখন নুরুল হুদার স্ত্রীর কাছে ছোট ভাইয়ের খবর জানতে চায় তখন তিনি আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত নিবাস পরিবর্তনের জন্য অস্থির হয়ে যান।

প্রশ্ন-১৭. ‘মনে হচ্ছে যেন বৃষ্টি পড়ছে মিন্টুর রেইনকোটের ওপর।’ একথা কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ায় চাবুকের আঘাত নুরুল হুদার কাছে রেইনকোটের ওপর বৃষ্টি পড়ার মতো মনে হয়। নুরুল হুদা ছিলেন ভীতু প্রকৃতির। কিন্তু শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে দেওয়ার পর তাঁর মধ্যে সাহস ও দেশপ্রেম সঞ্চারিত হয়। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান জানতে পাকিস্তানিরা তাঁকে উপর্যুপরি চাবুকের আঘাত করলেও তিনি বিচলিত হন না। বরং চাবুকের বিরতিহীন আঘাতগুলোকে তাঁর রেইনকোটের ওপর বৃষ্টি পড়ার মতো মনে হয়। বস্তুত এর মধ্য দিয়ে দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত নুরুলহুদার মানসিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।


আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক, গল্পের বই সহ যে কোন পিডিএফ ডাউনলোড করতে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের যে কোন আপডেট মিস করতে না চাইলে ফেসবুক ও ইউটিউবে সাবক্রাইব করে আমাদেস দাথে কানেক্ট থাকতে পারেন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।