পড়ে পাওয়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

পড়ে পাওয়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

পড়ে পাওয়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন: ‘পড়ে পাওয়া’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত কিশোর গল্প। এটি ‘নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

মূলবত্তব্য: এ গল্পের কিশোররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থসম্পদ নিয়ে লোভের পরিচয় দেয়নি। বরং তারা তাদের বয়সের চেয়ে অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, বয়সে ছোট হলে কী হবে, তাদের নৈতিক অবস্থান বেশ দৃঢ়। এই গল্পে কিশোরদের ঐক্য চেতনার যেমন পরিচয় পাওয়া যায় তেমনি তাদের উন্নত মানবিক বোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। তাদের তীক্ষ্ণ বিবেচনাবোধও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কিশোরদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধে বয়োজ্যেষ্ঠরাও বিস্মিত, অভিভূত হয়েছেন। কিশোররা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও বিবেচক তাকে মান্য করে তার ওপর আস্থা স্থাপন করে। এটি এ গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসার চিত্রও ফুটে উঠেছে এ গল্পে।


পড়ে পাওয়া গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রশ্ন ০১: করিম ও রহিম দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলেন। কাউন্টারে এক লক্ষ টাকার চেক দিলে ক্যাশিয়ার সাহেব ভুলে দশ হাজার টাকা বেশি দিলেন। দুই বন্ধু বাসায় এসে দেখলেন দশ হাজার টাকা বেশি। করিম সাহেব বললেন, অতিরিক্ত টাকা আমরা ফেরত দেব না। নিজেরা খরচ করব। কিন্তু রহিম সাহেব বললেন, বাকি টাকা ফেরত দেব। কেননা এ অতিরিক্ত টাকার জন্য ক্যাশিয়ার সাহেবের চাকরি চলে যেতে পারে। পরে দুই বন্ধু মিলে টাকাগুলো ফেরত দিলেন।

ক. ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কে সকলের সংশয় দূর করে দিল?
খ. অম্বরপুরের কাপালিরা সর্বস্বান্ত হয়েছে কীভাবে?
গ. উদ্দীপকের করিম ও রহিম ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কাদের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের ক্যাশিয়ার ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কাপালি একই সূত্রে গাঁথা— বিশ্লেষণ করো।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বিধু সকলের সংশয় দূর করে দিল।

খ। বন্যার প্রকোপে সর্বস্ব হারিয়ে অম্বরপুর চরের কাপালিরা সর্বস্বান্ত হয়েছে। ভীষণ বন্যায় আর নদীর স্রোতে অম্বরপুর চরের বড় বড় গাছ, গরু, ঘরবাড়ি সব ভেসে গেছে। পটল, লাউ, কুমড়োর খেত সব তলিয়ে গেছে। অর্থাৎ বন্যায় অম্বরপুর চরের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি সবকিছু বিনষ্ট হয়েছে। এভাবে ভয়াবহ বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে অম্বরপুরের বাসিন্দারা সর্বস্বান্ত হয়েছে।

গ। উদ্দীপকের করিম ও রহিম ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের গল্পকথক ও তার বন্ধু বাদলের প্রতিনিধিত্ব করে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে গল্পকার গ্রামের কয়েকজন কিশোরের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। এ গল্পের গল্পকথক ও বাদল কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটির জিনিসপত্র নিজেরা ভাগ করে নেওয়ার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত সেটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

উদ্দীপকের করিম এবং রহিম সাহেব ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে যান। এ সময় ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের ভুলে তাদের হাতে প্রাপ্য টাকার থেকে আরও দশ হাজার টাকা বেশি চলে আসে। প্রথমে করিম সাহেব বাড়তি সেই টাকা নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার কথা ভাবলেও পরমুহূর্তে রহিম সাহেবের পরামর্শ শুনে ক্যাশিয়ারের বিপদের কথা ভেবে টাকাটা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একইভাবে, আলোচ্য গল্পের গল্পকথক এবং বাদল প্রথমে টিনের ক্যাশবাক্সটি রেখে দেওয়ার কথা চিন্তা করেও শেষ পর্যন্ত তা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সততার পরিচয় দেয়। এদিক থেকে উদ্দীপকের করিম ও রহিম ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের গল্পকথক ও তার বন্ধু বাদলের প্রতিনিধিত্ব করে।

ঘ। উদ্দীপকের ক্যাশিয়ার এবং ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কাপালি একই সূত্রে গাথা”- মন্তব্যটি যথার্থ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি গ্রামের কয়েকজন কিশোরের সততার কাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। এ গল্পে কাপালি চরিত্রটি গল্পের প্রয়োজনে খুব স্বল্প পরিসরে এসেছে। এই কাপালি সমাজের দরিদ্র শ্রেণির প্রতিভূ, যে টাকা ও গয়নাসমেত টিনের ক্যাশবাক্সটি হারিয়ে এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপদাপন্ন হয়েছে। উদ্দীপকে ব্যাংকের একজন ক্যাশিয়ারের সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেই ক্যাশিয়ার অসাবধানতাবশত গ্রাহক করিম ও রহিমকে প্রদেয় টাকার চেয়ে দশ হাজার টাকা বেশি প্রদান করে। এই ভুল তার জন্য সমূহ ক্ষতির কারণ হতে পারত। এমনকি এ কারণে তার চাকরি পর্যন্ত চলে যেতে পারত। আলোচ্য গল্পে কাপালি চরিত্রটিও এরকম বাস্তবতার সম্মুখীন হয়।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কাপালি টাকা ও গয়নাভর্তি ডবল টিনের বাক্সটি হারিয়ে বিপদে পড়ে। অবশেষে বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়ে গল্পকথকদের বাড়িতে গিয়ে নিজের কাহিনি বললে গল্পকথক ও তার বন্ধুদের সততায় বাক্সটি সে ফেরত পায়। একইভাবে, উদ্দীপকে উল্লেখিত ব্যাংকের ক্যাশিয়ারও প্রদেয় টাকার থেকে বেশি টাকা করিম ও রহিম সাহেবকে প্রদান করে বিপদে পড়ে। কিন্তু করিম ও রহিম সাহেবের সততা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি সে টাকা ফেরত পান। অর্থাৎ আলোচ্য গল্পের কাপালি এবং উদ্দীপকের ক্যাশিয়ারের বাস্তবতা এবং পরিণতি একরকম। সেদিক বিবেচনায়, প্রশ্নোত্ত উক্তিটি যথার্থ।

প্রশ্ন ০২: বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে সকালে বাড়ি ফিরছিল হাশেম। হঠাৎ পথিমধ্যে একটি ছোটো হ্যান্ডব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে থমকে দাঁড়ায় সে। অনেক ভেবেচিন্তে ব্যাগটি নিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে কীভাবে ব্যাগটি ফেরত দেওয়া যায়। স্ত্রীর পরামর্শে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেয়ে চিন্তামুক্ত হয় হাশেম ও তার স্ত্রী তাহেরা।

ক. দণ্ডবৎ কী?
খ. অম্বরপুর চরের কাপালিরা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘পড়ে গাওয়া’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাটি বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকের হাশেম ও তার স্ত্রীর মনোভাব এবং ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের চেতনা এক ও ভিন্ন।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। দণ্ডবৎ হচ্ছে মাটিতে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।

খ। সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নের পৃষ্ঠা নং ৫৪, প্রশ্ন নং ৩-খ দেখো।

গ। কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততার পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কথক ও বাদল আম কুড়িয়ে ফেরার পথে একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। সেটি ছিল ডবল টিনের ক্যাশবাক্স, যাতে মানুষ টাকাসহ মূল্যবান জিনিস রাখত। প্রথমে তারা বাক্সটি রেখে দিতে চাইলেও পরবর্তীতে সবাই মিলে প্রকৃত মালিককে তা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। নদীর ধারের গাছে আঠা দিয়ে হারানো বিজ্ঞপ্তি লাগিয়ে তারা মালিককে খোঁজার চেষ্টা করে এবং পেয়েও যায়।

উদ্দীপকের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হাশেম পথের মাঝে একটি হ্যান্ডব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে থমকে দাঁড়ায়। সে বাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে ব্যাগটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সে ব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে সমর্থ হয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররাও একটি কুড়িয়ে গাওয়া টিনের বাক্স তার প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেয়। উভয়স্থানেই সততার পরিচয় পাওয়া যায়, যা উদ্দীপক ও গল্পটিকে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।

ঘ। সততার প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের হাশেম ও তার স্ত্রীর মনোভাব এবং ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের চেতনা এক ও অভিন্ন হওয়ায় প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে আম কুড়িয়ে ফেরার পথে কথক ও বাদল একটা ডবল টিনের ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটি প্রথমে খুলে দেখতে চাইলেও পরবর্তীতে তা পূর্বাবস্থায় মালিকের হাতে ফেরত দেওয়ার কথা চিন্তা করে তারা। বিধু এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তার কর্মতৎপরতা ও প্রচেষ্টার ফলে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যাগটি প্রকৃত মালিকের হাতে পৌঁছায়।

উদ্দীপকের নৈশপ্রহরী হাশেম ও তার স্ত্রীর মধ্যেও গল্পের ছেলেদের মতো সচেতনতা কাজ করেছে। হাশেম একটি হ্যান্ডব্যাগ কুড়িয়ে পেয়ে স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে তা ফিরিয়ে দিতে চায়। এ কারণে সে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে। ফলে ব্যাগটি সে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে চিন্তামুক্ত হয়। উদ্দীপকের হাশেম ও তার স্ত্রী অনেক ভেবে-চিন্তে হ্যান্ডব্যাগটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়। আলোচ্য গল্পের বালকেরাও টিনের ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পেয়ে তা নিজেদের কাছে না রেখে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ০৩: প্রচণ্ড যানজটে আটকাপড়া ট্যাক্সির ভেতর বসে শাহেদা বেগম অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক দেখছেন। কলেজছাত্র সঞ্জয় ও সাজিদ ঐ পথেই যাচ্ছিল। শাহেদা বেগমের অসহায় অবস্থা দেখে তারা এগিয়ে গিয়ে দেখল, মায়ের পাশে প্রচণ্ড জ্বরে প্রায় অচেতন অবস্থায় শুয়ে আছে তার সন্তান। সঞ্জয় দ্রুত শিশুটিকে কোলে নিয়ে শাহেদা বেগমকে নিয়ে এগোতে থাকে। অন্যদিকে সাজিদ গাড়ির পাশ কাটিয়ে পথ তৈরি করে আগে আগে চলতে থাকে। এভাবে তারা দ্রুত অসুস্থ শিশুসহ শাহেদা বেগমকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।

ক. গ্রামের ভাদুই কুমোর লেখকদের বাড়িতে কেন এসেছিল?
খ. বিধুর কাছে আসা লোকটি বিধুকে শাসিয়েছিল কেন?
গ. উদ্দীপকের শাহেদা বেগম পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সঞ্জয় ও সালিদ কি গল্পের কিশোর চরিত্রের সার্থক প্রতিরূপ? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। গ্রামের ভাদুই কুমোর লেখকদের বাড়িতে কুয়ো কাটানোর মজুরি চাইতে এসেছিল।

খ। মিথ্যে বর্ণনা দিয়ে বাক্স না পেয়ে বিধুর কাছে আসা লোকটি ক্ষোভে বিধুকে শাসিয়েছিল। পড়ে পাওয়া বাক্সটি সঠিক মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিতে ছেলেরা হারানো বিজ্ঞপ্তি লিখে নদীর ধারে বিভিন্ন গাছে আটকে দেয়। তখন লোভে পড়ে একজন লোক বিধুর কাছে আসার পর বিধু লোকটির কাছে বাক্সের বর্ণনা জানতে চাইলে লোকটির বর্ণনা মেলে না। তখন বিধু লোকটিকে চলে যেতে বলায় সে রেগে গিয়ে বিধুকে শাসিয়ে যায়।

গ। উদ্দীপকের শাহেদা বেগম ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের অম্বরপুরের নিঃস্ব কাপালি চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কথক ও তার বন্ধু বাদল আম কুড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটা টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটি ছিল অম্বরপুরের এক কাপালি পরিবারের। তার বাক্সের মধ্যে ছিল মেয়ের বিয়ের জন্য প্রায় আড়াইশ টাকার গহনা আর পটল বেচা নগদ পঞ্চাশ টাকা। তারপর তাদের এলাকায় বন্যা শুরু হলে তারা গৃহহীন হয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে। একের পর এক বিপদে তার অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।

কিন্তু গল্পকথক ও তার বন্ধুদের সততা ও কর্মতৎপরতায় কাপালি তার হারিয়ে যাওয়া বাক্সটি ফিরে পায়। উদ্দীপকে বর্ণিত শাহেদা বেগম তার মুমূর্ষু সন্তানের আরোগ্য লাভের জন্য হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে প্রচণ্ড যানযটের কারণে তিনি দিশাহারা হয়ে ওঠেন। তিনি অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকেন দ্রুত যাওয়ার জন্য। কলেজছাত্র সঞ্জয় ও সাজিদ সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি লক্ষ করে। তারা বুদ্ধি করে শিশুটিকে কোলে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যায়।

অসহায় শাহেদা বেগম তাদের সততা ও মানবিকতার কারণে বিপদ থেকে রক্ষা পান। একইভাবে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের বাক্সটি ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দরিদ্র কাপালি তার সমস্যা থেকে মুক্তি পায়। এভাবে গল্পের কাপালির অসহায় অবস্থা থেকে উত্তরণের দিকটি উদ্দীপকের শাহেদা বেগমের মাঝেও ফুটে উঠেছে।


🔆🔆 আরও দেখুন: নতুন দেশ কবিতার অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর
🔆🔆 আরও দেখুন: কাবুলিওয়ালা গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর
🔆🔆 আরও দেখুন: ভাব ও কাজ অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর


ঘ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের মধ্যে উন্নত মানবিকতাবোধের পরিচয় পাওয়া যায়, যা উদ্দীপকের সঞ্জয় ও সাজিদের মধ্যেও লক্ষণীয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বর্ণিত কথক ও বাদল একটা ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটির ভেতরের সম্পদ প্রথমে তারা নিজেরা রেখে দিতে চায়। পরবর্তীতে তাদের নৈতিকতা ও সততা তাদেরকে এই কাজ করতে বাধা দেয়। তাই তারা লোভ সংবরণ করে বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে গল্পের কিশোররা বয়সের তুলনায় অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়।

উদ্দীপকের শাহেদা বেগম একজন অসহায় মা। তিনি তার মুমূর্ষু সন্তান নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে প্রচণ্ড যানজটের কারণে তিনি যথাসময়ে হাসপাতালে যেতে পারছিলেন না। তিনি অস্থিরভাবে এদিক- ওদিক তাকাচ্ছিলেন কোনো উপায় বের করার জন্য। তাঁর যখন কিছুই করার নেই এমন সময় কলেজছাত্র সঞ্জয় ও সাজিদের বিষয়টি চোখে পড়ে। করে শিশুটিকে কোলে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে শাহেদা বেগম তাদের সততা ও মানবিকতার কারণে বিপদ থেকে রক্ষা পান। এর মাধ্যমে সঞ্চয় ও সালিদের নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্প আর উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই চরিত্রগুলোর সততা ও নৈতিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদ চাইলেই তারা নিজেদের কাছে রাখতে পারত। কিন্তু গল্পের কিশোররা তা করেনি। প্রকৃত মালিককে জিনিস ফিরিয়ে দেওয়ার তাড়না কাজ করেছে তাদের মাঝে। নিজেদের লোভ সংবরণ করে তারা প্রকৃত মালিককে তার সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে, কলেজছাত্র সঞ্জয় ও সাজিদ অন্যদের মতো নিজের কাজে চলে যেতে পারত। কিন্তু তারা তা না করে অসহায় মায়ের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে, যা তাদের সততা ও দায়িত্বশীলতারই নামান্তর। সেদিক বিবেচনায় কলেজছাত্র সপ্তায় ও সাজিদ আলোচ্য গল্পের কিশোরদের সার্থক প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন ০৩: দৃশ্যকল্প-১: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেল স্টেশনের ৪০০ মিটার পূর্ব দিকে ঝিনা রেলগেটে লাইন ভাঙা দেখে দুই – শিশু গলায় পেঁচানো লাল মাফলার তুলে ধরে। এটা দেখে চালক ট্রেনটিকে থামিয়ে দেয়।
দৃশ্যকল্প-২: দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরের বাসিন্দা শংকরী দেবী চায়ের দোকান চালিয়ে বহুদিনের জমানো টাকায় দুটি সোনার চুড়ি কেনেন। কিন্তু অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে গহনাসমেত ব্যাগটি হারিয়ে যায়। ব্যাগটি কুড়িয়ে পান রিকশাচালক সদানন্দ মণ্ডল। তাঁর এলাকার একজন পরিচিত ব্যবসায়ীর মাধ্যমে জেলার চেম্বার অব কমার্সের সহযোগিতায় তাঁদেরই অফিসে সেই গহনা শংকরী দেবীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ক. বাক্স ফেরত দেওয়ার কথা মনে আসতেই তাদের মধ্যে কী ধরনের অনুভূতি কাজ করেছিল?
খ. “ঠাকুরমশাই, আপনারা মানুষ না দেবতা?”—উক্তিটি কাপালি কেন করেছিল? বর্ণনা করো।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত ছেলে দুটির সঙ্গে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রের পরিচয় দাও।
ঘ. “দৃশ্যকল্প-২ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল উদ্দেশ্যকেই ধারণ করে।” —উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। বাক্স ফেরত দেওয়ার কথা মনে আসতেই তাদের মধ্যে নৈতিকতার এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করেছিল।

খ। গল্পকথকদের সততায় মুগ্ধ হয়ে কাপালি প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করেছিল। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে গল্পকথক ও তার বন্ধুদের নৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। তারা ডবল টিনের ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পেলে তা প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেয়। বাক্সটির মালিক একজন দরিদ্র কাপালি। সে গল্পকথকের পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানা সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছে। তার ওপর নিজের হারিয়ে যাওয়া ক্যাশবাক্স ফিরে পেয়ে কাপালি লোকটি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তাই আবেগে, কৃতজ্ঞতায় সে বলেছে, “ঠাকুরমশাই, আপনারা মানুষ না দেবতা?”

গ। দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত ছেলে দুটির সঙ্গে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে গল্পকথক ও তার বন্ধুদের উন্নত মানবিকবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। পুরো গল্প জুড়েই তারা দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। সেখানে গল্পকথক ও তার বন্ধু বাদল একটি ডবল টিনের ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পেয়েও তা আত্মসাৎ করেনি। তারা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করেছে। বাক্সের মালিকের কথা চিন্তা করে তারা সমব্যথী হয়েছে। গল্পকথক ও তার বন্ধুদের এরূপ মনোভাব তাদের দায়িত্ববোধের দিকটিকেই প্রস্ফুটিত করে।

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ দুটি ছেলের দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। তারা একটি ট্রেনকে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছে নিজেদের উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে। তারা ভাঙা রেললাইন দেখে নিজেদের গলায় পেঁচানো লাল মাফলার তুলে ধরেছে ট্রেনের চালককে উদ্দেশ্য করে। ট্রেনের চালক ছেলে দুটির সংকেত অনুধাবন করতে পেরে যথাসময়ে ট্রেনটি থামিয়ে দিয়েছে। ছেলে দুটির এরূপ দায়িত্বশীলতা ট্রেনটিকে বড়ো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছে। আর উদ্দীপকের ছেলে দুটির দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে অন্যের উপকারের এই দিকটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের সমতুল্য।

ঘ। সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় প্রদানে উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এবং ‘পড়ে পাওয়া’ গল্প সমদর্শী হওয়ায় প্রশ্নোত্ত উত্তিটি যথার্থ বলে বিবেচিত। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে একদন কিশোরের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রকাশ লক্ষণীয়। গল্পে একদল কিশোর ডবল টিনের ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পেয়েও তা আত্মসাৎ না করে বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এর মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং নৈতিক মূল্যবোধের দিকটিই মূর্ত হয়ে উঠেছে। কিশোরদের মাঝে প্রকাশিত এরূপ মানবীয় গুণাবলির পরিচয় প্রদানের মানসেই গল্পকার ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের অবতারণা করেছেন।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ সদানন্দ মণ্ডলের আচরণের মধ্যে সততার দিকটিই প্রকট হয়ে উঠেছে। তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও তাঁর মধ্যে সততার ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। সেজন্যই গহনাসমেত ব্যাগ ঝুড়িয়ে পেয়েও তা আত্মসাৎ করেননি তিনি। সততা, নিষ্ঠা ও নৈতিক মূল্যবোধে ঋদ্ধ হয়ে তিনি গহনাসমেত ব্যাগ প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। সদানন্দ মণ্ডলের এই মৌলিক মানবীয় গুণের দিকটিই উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর মূল প্রতিপাদ্য।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল উদ্দেশ্য কিশোরদের সততা ও নৈতিকতার দিকটি সকলের মাঝে তুলে ধরা। গল্পের কিশোরেরা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস আত্মসাৎ না করে নিজেদের দায়িত্বশীলতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছে। গল্পের এ দিকটি উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ পূর্ণরূপে ধারণ করতে পেরেছে। কেননা, সেখানেও সদানন্দ মণ্ডলের আচরণের মধ্য দিয়ে এই সততা ও দায়িত্বশীলতার দিকটিই প্রধান হয়ে উঠেছে। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, “উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল উদ্দেশ্যকেই ধারণ করে।” প্রশ্নোত্ত এই মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ০৪: রাণিক ৪০ টাকা মূল্যের আইসক্রিম কিনে দোকানিকে ৫০ টাকার নোট দেয়। দোকানি ৬০ টাকা ফেরত দিলে রাশিক দোকানির দেওয়া অতিরিক্ত টাকা তৎক্ষণাৎ ফেরত দেয়। দোকানি টাকা ফেরত পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয় এবং রাণিকের জন্য দোয়া করে। এ ঘটনাটি দোকানি অন্যদের বলে রাশিকের ব্যাপক প্রশংসা করে।

ক. ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
খ. ও বড় হলে উকিল হবে, সবাই বলত— উদ্ভিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের রাশিকের কাজটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন দিককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের দোকানির মতো করে কিশোরদের প্রশংসার জন্যই কি লেখক ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি লিখেছেন? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

০৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি ‘নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

খ। শৈশব থেকেই বিধুর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে সবাই প্রশ্নোত্ত উদ্ভিটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বর্ণিত কিশোরদের সর্দার বিধুর নানা গুণের মধ্যে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা অন্যতম। প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার পর বাম ফেরত দেওয়ার আগে সাক্ষী জোগাড় এবং লিখিত বক্তব্য রাখার মধ্যেও বিধুর বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া যায়। এ কারণে সবাই বলত ‘ও বড় হলে উকিল হবে।

গ। উদ্দীপকের রাশিকের কাজটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের সততা ও নৈতিকতার দিককে নির্দেশ করে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে লেখক কিশোরদের সততা ও দায়িত্বশীলতার দিকটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই কিশোররা টাকা ভর্তি ভবল টিনের ক্যাশ বাক্সটি কুড়িয়ে পেয়েও আত্মসাৎ করেনি। দলের সবার সম্মতিক্রমে বুদ্ধি করে প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটি পৌঁছে দিয়েছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত রাশিক আইসক্রিম কেনার সময় পঞ্চাশ টাকার নোট দিলে ভুলবশত দোকানি তাকে বেশি টাকা ফেরত কিন্তু রাশিক অতিরিক্ত টাকা নিজের কাছে না রেখে দোকানিকে ফেরত দেয়। রাশিকের এমন কর্মকাণ্ডে তার সততা ও নৈতিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। আলোচ্য গল্পের কিশোরদের কর্মকাণ্ডেও নৈতিকতার বিষয়টি লক্ষ করি। টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও তারা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেয়। আর তাই সততা ও নৈতিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের রাণিকের কর্মকাণ্ডে ‘পড়ে পাওয়া’, গল্পের কিশোরদের সততার পরিচয় পাওয়া যায়।

ঘ। উদ্দীপকের দোকানির মতো কিশোরদের প্রশংসার জন্য নয় বরং কিশোরদের মাঝে মানবিক ও নৈতিকতা জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যেই লেখক ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি লিখেছেন। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে লেখক নৈতিকতাসম্পন্ন একদল কিশোরদের কথা বর্ণনা করেছেন। এ পথে কিশোরদের সততা ও দায়িত্বশীলতার যে পরিচয় পাওয়া যায় তা অতুলনীয়। পাশাপাশি তাদের বিবেচনাবোধ ও ঐক্যের বিষয়টিও প্রশংসার দাবিদার। উদ্দীপকে সেই রাণিক চল্লিশ টাকা দামের আইসক্রিম কিনতে গিয়ে দোকানিকে পঞ্চাশ টাকার নোট দিলে দোকানি তাকে বেশি টাকা ফেরত দেয়। কিন্তু সেই টাকা সে আত্মসাৎ না করে দোকানিকে ফেরত দেয়। দোকানি খুশি হয়ে রাশিকের জন্য দোয়া করে এবং অন্যদের কাছে তার প্রশংসা করে।

রাণিকের এমন কর্মকাণ্ড সততা ও নৈতিকতার পরিচয় ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের নৈতিকতার জায়গাটি বেশ দৃঢ়। এই গল্পে কিশোরদের ঐক্যচেতনার পাশাপাশি উন্নত মানবিকবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন লেখক। তাছাড়া দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসার চিত্রও ফুটে উঠেছে সেখানে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের রাশিকের কর্মকাণ্ডও নৈতিকতার পরিচয় বহন করে শুধু প্রশংসার জন্যই লেখক পড়ে পাওয়া’ গল্পটি লেখেননি, কিশোরদের মাঝে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, এবং মানবিকবোধের বিকাশের জন্য অনুপ্রাণিত করে লেখক আলোচ্য গল্পটি লিখেছেন।

প্রশ্ন ০৫: কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ঝড়, বৃষ্টি ও বানের পানিতে একাকার হয়ে জনজীবন বিপন্ন। বার্নের পানিতে তলিয়ে গেল তাদের বাড়িঘর। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাব। শিহাব শাহীন ও শান্ত তিন কিশোর বন্ধু সেখানে ঘুরতে গেল। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তারা একটি কাপড়ের থলে পেল, যার মধ্যে কিছু টাকা রয়েছে। তারা ভাবল, নিশ্চয়ই কোনো অসহায়ের টাকা হবে। তারা মালিককে খুঁজে পেল না। পরে মাইকিং করে সেগুলো ফেরত দেওয়া হলো।

ক. বাদলদের গুপ্ত মিটিং কোথায় হলো?
খ. ‘অধর্ম করা হবে না’- কথাটি কেন বলা হয়েছে? বুঝিয়ে দাও।
গ. উদ্দীপকের প্রথম দিকটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের যে ঘটনাকে নির্দেশ করে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের কিশোররা ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদেরই প্রতিনিধি”— মূল্যায়ন করো।

০৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। বাদলদের গুপ্ত মিটিং হলো তাদের ডাঙা নাটমন্দিরের কোণে।

খ। কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার তাগিদ থেকে প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করা হয়েছে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররা আম কুড়াতে গিয়ে টাকা ভর্তি একটি ডবল টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। প্রাপ্ত অর্থ প্রথমে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইলেও অধর্মের কাজ হবে ভেবে পরক্ষণেই তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার বাসনা জাগে তাদের। বাক্সটি সৎভাবে মালিককে ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে গিয়ে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।

গ। উদ্দীপকের প্রথম দিকটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বর্ণিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দিকটিকে নির্দেশ করে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে দেখি কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যায় নদীর স্রোতে বড়ো বড়ো গাছ, গরু, ঘরবাড়ি সব ভেসে গেছে। পটল, লাউ, খড়ের চালার ঘর সব তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে। ফসল থেকে প্রাপ্য অর্থের জোগানও বন্ধ হয়ে গেছে। আর তাই অম্বরপুরের বাসিন্দাদের জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। উদ্দীপকেও আমরা দেখি, ঝড়-বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। পানির প্রকোপে ঘরবাড়ি ভেসে গেলে স্বাভাবিক অবস্থার অবনতি দেখা দেয়। ফলে সর্বত্র বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। পড়ে পাওয়া’ গল্লেও কালবৈশাখীর এমন তাণ্ডব লক্ষ করা যায়। এছাড়াও বন্যায় নিরাশ্রয় হয়ে যায় অসচ্ছল পরিবারগুলো। অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষের মানবেতর জীবনযাপনের দিকটি উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পে বর্ণিত হয়েছে। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের প্রথম দিকটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বিধৃত প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টিকেই নির্দেশ করে।

ঘ। সততা ও নৈতিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের কিশোরদের কর্মকাণ্ড ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কথক ও বাদল একটি ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পায়। অর্থের লোভ না করে তারা অন্য বন্ধুদের সাথে পরামর্শ করে বাক্সটি ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে তারা প্রকৃত মালিককে বাক্সটি ফিরিয়ে দিতে সমর্থ হয়। উদ্দীপকের শিহাব শাহীন ও শান্ত নামের তিন কিশোর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘুরতে গিয়ে থলে ভর্তি টাকা কুড়িয়ে পায়। থলেটি পাওয়ার পর তারা আত্মসাৎ না করে ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। অবশেষে তারা প্রকৃত মালিককে টাকা ফেরত দিতে সফল হয়।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্প ও উদ্দীপক বিশ্লেষণে বলা যায়, উভয় ক্ষেত্রে ঘটনা ভিন্ন হলেও সমধর্মী চেতনাই প্রকাশ পেয়েছে। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ না করে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাহীন ছিল কিশোররা। এছাড়া তাদের কর্মকাণ্ডে দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসার পরিচয় ফুটে উঠেছে। কিশোরদের সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায় গল্পটিতে। কিশোররা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তারা তাদের মধ্যে বুদ্ধিমানকেই মান্য করে, যা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাই প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

প্রশ্ন ০৬: একটি বেসরকারি অফিসে অফিস সহায়কের চাকরি করে উজ্জ্বল। সে কক্ষ খুলে দিলে ভোরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখাল প্রধান নির্বাহীর অফিসকক্ষ পরিষ্কার করে। একদিন সে বড়ো কর্তার রুমের বাস্কেটে দেখতে পায় টাকার বান্ডিল। প্রথমে রাখাল খুশি হলেও সে ভাবে বড়ো কর্তা অসতর্কভাবে হয়তো ভুলে এটা রাখতে পারেন। রাখাল ভেবেচিন্তে বিষয়টি অফিস সহায়ক উজ্জ্বলকে জানায়। বড়ো কর্তা অফিসে এলে রাখাল ও উজ্জ্বল বিষয়টি তাকে জানায়।

ক. পত্রপাঠ বিদায় কী?
খ. ‘অধর্ম করা হবে না কেন?
গ. উদ্দীপকে টাকা পাওয়ার ঘটনায় পড়ে পাওয়া’ গল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের রাখাল ও উজ্জ্বল যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরবৃন্দ”- মূল্যায়ন করো।

০৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। পত্রপাঠ বিদায় অর্থ তৎক্ষণাৎ বিদায়।

খ। সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নের পৃষ্ঠা নং ৫৬, প্রশ্ন নং ৮-খ দেখো।

গ। উদ্দীপকে টাকা পাওয়ার ঘটনাটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের ভবল টিনের ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পাওয়ার দিকটিকে তুলে ধরে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের গল্পকথক ও বাদল একটি ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স বুড়িয়ে পায়। অর্থের লোভ না করে তারা অন্য বন্ধুদের সাথে পরামর্শ করে টিনের ক্যাশ বাক্সটি ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করে। উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে শেষ পর্যন্ত বাক্সটি তারা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে সমর্থ হয়।

উদ্দীপকের অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখাল অফিস পরিষ্কার করতে গিয়ে টাকার বান্ডিল কুড়িয়ে পায়। টাকাটি দেখে তার আনন্দ হলেও পরক্ষণেই তার ভেতর নৈতিকতাবোধ জেগে ওঠে। অবশেষে রাখাল ও উজ্জ্বল অর্থের লোভ না করে টাকার বান্ডিল সম্পর্কে অফিসের বড় কর্তাকে জানিয়ে দেয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররাও উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে প্রকৃত মালিককে টিনের ক্যাশ বাক্স ফেরত দিয়ে নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের কিশোরদের টাকা পাওয়ার ঘটনাটি গল্পের কিশোরদের ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পাওয়ার দিকটি তুলে ধরে।

ঘ। উদ্দীপকের রাখালের কর্মকাণ্ডে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররা ঝড়ের দিনে একটি টিনের ক্যাশ বাক্স খুঁজে পায়। প্রথমে তাদের মনে হয় এর ভেতরের সবকিছু নিজেরা নিয়ে নেবে। কিন্তু পরক্ষণেই তারা ভাবনার পরিবর্তন করে। লোভ সংবরণ করে বাক্সটি মাণিককে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উদ্দীপকের রাখাল ভেবেচিন্তে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সে কাজ করতে গিয়ে অফিসে একটি টাকার বান্ডিল কুড়িয়ে পায়।

প্রথমে নিজের জন্য খরচ করবে ভাবলেও পরে বিষয়টি সে অফিস সহায়ক উজ্জ্বলকে জানায়। দুজনের পরামর্শে বিষয়টি তারা বড়ো কর্তাকে অবহিত করে। এক্ষেত্রে উজ্জ্বল একজন সুপরামর্শক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররা যেমন লোভ সংবরণ করে বাক্সটি ফেরত দেয়, তেমনি উদ্দীপকের রাখাল অনুরূপ সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিষয়টি উজ্জ্বলকে জানায়। দুজনেই মিলে মালিককে ফেরত দেয় টাকার বান্ডিলটা। এক্ষেত্রে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরবৃন্দ এবং উদ্দীপকের রাখাল সুবিবেচকের দায়িত্ব পালন করেছে। এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, উদ্দীপকের রাখাল ও উজ্জ্বল যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদেরই প্রতিনিধি।

প্রশ্ন ০৭: সকালে রাস্তা ঝাঁট দিতে গিয়ে ঝাড়ুদার মংলু একটা হ্যান্ডব্যাগ বুড়িয়ে পায়। ব্যাগ খুলে তাতে পাঁচশত টাকার দুটি বান্ডিল দেখতে পায়। অন্য কোনো চিন্তা না করে সে টাকাসহ ব্যাগটি থানায় জমা দিয়ে আসে।

ক. ‘চৌকিদার’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ও বড় হলে উকিল হবে বিধু সম্পর্কে সকলের এমন ভাবনার কারণ বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের মংপুর কাজে পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন দিক ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিক ছাড়াও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে আরো নানা ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

০৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। চৌকিদার শব্দের অর্থ প্রহরী।

খ। সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নের পৃষ্ঠা নং ৫৬, প্রশ্ন নং ৭-খ দেখো।

গ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বর্ণিত সততা ও নৈতিকতার দিকটিই উদ্দীপকের মংলুর কাজের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে লেখক কিশোরদের সততা ও দায়িত্বশীলতার দিকটি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। এই কিশোররা টাকাভর্তি ডবল টিনের ক্যাশ বাক্সটি কুড়িয়ে পেয়েও আত্মসাৎ করেনি। দলের সবার সম্মতিক্রমে বুদ্ধি করে প্রকৃত মালিকের কাছে সেটি পৌঁছে দিয়েছে।

উদ্দীপকের ঝাড়ুদার মংলু রাস্তা ঝাঁট দিতে গিয়ে একটি হ্যান্ডব্যাগ কুড়িয়ে পায়। বাগটি পাওয়ার পরপরই সে থানায় জমা দিয়ে আসে। এমন কর্মকাণ্ডে মংলুর সততার পরিচয় পাওয়া যায়। নৈতিকতাবোধের কারণেই সে টাকাভর্তি ব্যাগটি আত্মসাৎ না করে থানায় জমা দেয়। একইভাবে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের বাক্সটি ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সততার দিকটি পরিলক্ষিত হয়। সে বিবেচনায় গল্পের সততা ও নৈতিকতার দিকটিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ। সততা ও নৈতিকতার দিকটি ছাড়াও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের আরো নানা দিক আছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররা আম কুড়াতে গিয়ে একটা ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স খুঁজে পায়। বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য তারা পরামর্শ করে উণায় বের করে এবং শেষ পর্যন্ত উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্দীপকের মংলু রাস্তা ঝাঁট দিতে গিয়ে একটি হ্যান্ডব্যাগ খুঁজে পায়। এত টাকা দেখেও তার মাঝে কোনো লোভ জাগেনি।

প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য সে থানায় গিয়ে ব্যাগটি জমা দিয়ে আসে। এতে তার সততার পরিচয় পাওয়া যায়। উদ্দীপক ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে চরিত্রগুলোর মধ্যে নৈতিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু এটিই এ গল্পের একমাত্র দিক নয়, আরো অনেক বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে গল্পটিতে। সেখানে লেখক দেখিয়েছেন কিশোররা বয়সে ছোটো হলেও, সেখানে তাদের নৈতিকতার জায়গা বেশ দৃঢ়। এই গল্পে কিশোরদের ঐক্যচেতনার পরিচয় যেমন পাওয়া যায় তেমনি তাদের উন্নত মানবিকবোধেরও পরিচয় পাওয়া যায়।

তাছাড়া দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসাও কিশোরদের উন্নত মানবিকবোধের পরিচয় বহন করে। এসব বিষয় উদ্দীপকে আলোচিত হয়নি। তাই সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকে ফুটে ওঠা নৈতিকতার দিক ছাড়াও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে আরো নানান ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে।

প্রশ্ন ০৮: স্কুল থেকে বাসায় আসার সময় রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ১০ হাজার ইউএস ডলার ভর্তি ব্যাগ তার মালিককে ফেরত দিয়ে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বালক রুমি জিইনি। ব্যাগের সঙ্গে ব্যাগের মালিকের কোনো যোগাযোগ নম্বর না পেয়ে বাসায় গিয়ে বিষয়টি জানায় তার বাবা-মাকে। তার বাবা-মা সান্তা বারবারা কাউন্টি অফিসে ব্যাগটি ফেরত দিয়ে আসেন। রুমি জিইনি বলেন, আমি যদি কিছু টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারাতাম তাহলে অবশ্যই আমিও এরকমভাবে ফেরত চাইতাম।

ক. গল্পকথকদের দলে সবচেয়ে বিজ্ঞ কে?
খ. ‘এক মুহূর্তে দুজনের মনই বদলে গেল। – ব্যাখ্যা করো।
গ। উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ। উদ্দীপকের রুমি জিইনির ভাবনায় ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে কি? যৌক্তিক মতামত দাও।

০৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক। গল্পকথকদের দলে সবচেয়ে বিজ্ঞ বিধু।

খ। প্রশ্নোত্ত উদ্ভিটির মধ্য দিয়ে গল্পকথক পড়ে পাওয়া বাক্সটির বিষয়ে তাদের নৈতিকতাবোধ জেগে ওঠার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। চাঁপাতলীর আম কুড়িয়ে আসার পথে গল্পকথক এবং তার বন্ধু বাদল একটি ডবল টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। প্রথমে তারা বাক্সটির মধ্যে থাকা সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নেওয়ার কথা চিন্তা করে। কিন্তু পরমুহূর্তেই তাদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জেগে ওঠে এবং বাক্সটির মালিকের কথা চিন্তা করে তাদের মন পরিবর্তন হয়। প্রশ্নোত্ত উত্তিটির দ্বারা এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

গ। উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের চরিত্রের সততা ও নৈতিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে । ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে গল্পকার গ্রামের একদল বালকের আনন্দময় জীবনের চিত্র উপস্থাপন করেছেন। এ গল্পের কিশোররা দুরন্ত হলেও তাদের নৈতিকতাবোধ যথেষ্ট দৃঢ়। এ কারণেই কুড়িয়ে পাওয়া ক্যাশ বাক্সটি তারা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে।

উদ্দীপকে ঝুমি জিইনি নামের এক কিশোরের সততার পরিচয় মেলে। স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময় সে দশ হাজার ইউএস ডলার সমেত একটি ব্যাগ ঝুড়িয়ে পায়। এমতাবস্থায় কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানায় এবং তাদের সহায়তায় ব্যাগটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে ফেরত দেওয়ার জন্য কাউন্টি অফিসে জমা দেয়। এর মধ্য দিয়ে তুমি জিইনির চরিত্রের সততা এবং নৈতিকতার পরিচয় মেলে। একইভাবে, ‘পড়ে পাওয়া’ গল্লেও কুড়িয়ে পাওয়া একটি টাকা ও গহনাভর্তি বাক্স ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে একদল কিশোরের সততার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের রুমি জিইনির কর্মকাণ্ডে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের নৈতিকতার দিকটিই ফুটে উঠেছে।

ঘ। উদ্দীপকের রুমি জিইনির ভাবনায় ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশোরদের উন্নত নৈতিক চেতনার পরিচয় মেলে। তাই অর্থ ও গহনাভর্তি বাক্সটি কুড়িয়ে পেয়েও তারা সেটি আত্মসাৎ করেনি। বুদ্ধি খাটিয়ে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তাকে সেটি ফেরত দিয়েছে।

উদ্দীপকের রুমি লিইনি একজন স্কুলপড়ুয়া বালক। স্কুল থেকে ফেরার পথে সে বিপুল পরিমাণ অর্থভর্তি একটি ব্যাগ কুড়িয়ে পায় এবং সততার পরিচয় দিয়ে ব্যাগটিকে কাউন্টি অফিসে জমা দেয়। সে মনে করে, কুড়িয়ে পাওয়া ব্যাগটি প্রকৃত মালিকেরই ফেরত পাওয়া উচিত। কেননা, তাঁর নিজের কিছু হারিয়ে গেলে সেও একইভাবে হারানো জিনিসটি ফেরত চাইত। রুমি জিইনির চরিত্রে ফুটে ওঠা সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠার এ দিকটি আলোচ্য গল্পেও পরিলক্ষিত হয়। ‘পড়ে পাওয়া’ একটি বিখ্যাত কিশোর গল্প। কিশোরদের নৈতিক চেতনা এবং কর্তব্যপরায়ণতাই এ গল্পের মূল উপজীব্য। কেননা, এ গল্পের কিশোররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থসম্পদ গ্রহণ করে লোডের পরিচয় দেয়নি।

প্রশ্ন ০৯: রাজা মিয়া রিকশাচালক। একদিন এক আরোহী রিকশা থেকে দ্রুতবেগে নেমে যাওয়ার সময় ভুলে তার হাতব্যাগটি রিকশায় ফেলে যায়। পরে বিষয়টি রাজা মিয়ার নজরে এলে সে অনেকক্ষণ ব্যাগের মালিকের জন্য অপেক্ষা করে। অবশেষে ব্যাগটি থানায় জমা দেয়।

ক. কার নির্দেশমতো মিটিং বসেছিল?
খ. বিধু কীভাবে সবার সংশয় দূর করল?
গ. উদ্দীপকের রাজা মিয়াকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ক্ষুদ্র পরিসরে বর্ণিত হলেও উদ্দীপকটি যেন গল্পের মূলসুরকেই ব্যক্ত করে’- ‘পড়ে পাওয়া’ গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

প্রশ্ন ১০: কানাডা প্রবাসী আফজাল সাহেব ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। একজন মহিলা যাত্রীর ফেলে যাওয়া ভ্যানিটি ব্যাগভর্তি ডলার পেয়ে তিনি কোনো ঠিকানার হদিস করতে না পেরে পুলিশের শরণাপন্ন হন। এতে তিনি প্রশংসিত তো হনই একই সাথে বিশ্বের দরবারে বাঙালির সম্মানকেও তিনি বাড়িয়ে দিলেন বহুগুণে।

ক. বন্যায় অম্বরপুরচরের কারা নিরাশ্রয় হয়ে গেল?
খ. গল্পকথক কী ভেবে বাক্সটির তালা ভাঙতে নিষেধ করল?
গ. উদ্দীপকের আফজাল সাহেবকে কোন যুক্তিতে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়—ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আফজাল সাহেব মূলত ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূলসুরকেই ধারণ করেন”মূল্যায়ন করো।


আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক, গল্পের বই সহ যে কোন পিডিএফ ডাউনলোড করতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ। এছাড়াও আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে ফেসবুকে কানক্ট থাকতে পারেন।

About মেরাজুল ইসলাম

আমি মেরাজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পাশাপাশি একজন ব্লগার। এডুকেশন এর প্রতি ভালোবাসাও অনলাইল শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর জন্য এডুকেশন ব্লগের পথচলা। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড সকল কাজ করি।

View all posts by মেরাজুল ইসলাম →