চিঠি লেখার নিয়ম

চিঠি লেখার নিয়ম ২০২৩

চিঠি লেখার নিয়ম: মোবাইল ফোন আবিষ্কার এর আগে যোগাযোগ এর একমাত্র মাধ্যম ছিলো চিঠি বা পত্র। কিন্তু মোবাইল ফোন আবিষ্কারের পর থেকে মানূষের মধ্যে চিঠি বা পত্র লেখার প্রচলন কমে যাচ্ছে। বর্তমানে পরিক্ষার খাতা বা অফিশিয়াল কাজ ছাড়া খুব একটা চিঠি বা পত্র ব্যবহার করা হয় না।

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সবাই ভালো আছেন? আপনারা হয়তো অনেকে জানেন আবার অনেকে জানেন না যে চিঠি লেখার বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। পিডিএফ মেলার আজকের আর্টিকেলে চিঠি লেখার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। কথা না বড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।


চিঠি লেখার নিয়ম

পত্র রচনায় সাধারণ নিয়ম চিঠি লিখতে হলে কতকগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হবে।

  • চিঠি বা পত্রের প্রকাশভঙ্গি আকর্ষণীয় হতে হবে। এর জন্যে সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় চিঠি বা পত্র লিখতে হবে।
  • চিঠি বা পত্রে কোনো কঠিন শব্দ ব্যবহার করা যাবে না, এবং হাতের লেখা যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। ভাষা প্রয়োগেও শুদ্ধতা বজায় রাখতে হবে।
  • চিঠি বা পত্ররে বক্তব্য হবে সুস্পষ্ট, এবং অনাবশ্যক কিংবা অতিরঞ্জিত করে কোনোকিছু না লেখাই ভালো।
  • চিঠি বা পত্র লেখার পদ্ধতি মেনে চলতে হবে, এবং খামে নাম ঠিকানা স্পষ্ট ভাবে লিখতে হবে।

ব্যক্তিগত পত্র বা চিঠি লেখার নিয়ম (Personal Letter)

পিতার কাছে পুত্রের পত্র, পুত্রের কাছে পিতার পত্র, ছোট ভাইয়ের কাছে বড় ভাইয়ের পত্র, বন্ধুর কাছে পত্র, ছোট ভাই-বোনকে আদেশ বা উপদেশমূলক পত্র, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্যে কিংবা পুরস্কার প্রাপ্তির জন্যে অভিনন্দন পত্র ইত্যাদি পত্র কে ব্যক্তিগত পত্র বা চিঠি বলে।


🔆🔆 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বায়ান্নর দিনগুলো
🔆🔆 অনুধাবন প্রশ্ন: বায়ান্নর দিনগুলো


সহজ ভাষায় বলতে গেলে নিতান্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিংবা ব্যক্তিগত ভাব-ভাবনা প্রকাশের তাগিদে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, আপনজন ও পরিচিতজনের কাছে লিখিত চিঠিকে ব্যক্তিগত চিঠি (Personal Letter) বলে। সাধারণত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে— ব্যক্তিমনের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনা এবং ব্যক্তিজীবনের নানাধরনের সমস্যা ইত্যাদি ব্যক্তিগত পত্রের মূল উপজীব্য।

ব্যক্তিগত চিঠি লেখার নিয়ম

  • চিঠির ওপরের মঙ্গলসূচক শব্দ। (আজকাল ব্যক্তিগত চিঠিতে মঙ্গলসূচক শব্দের ব্যবহার কেউ করেন না)
  • চিঠির ওপরের ডান কোণে স্থান ও তারিখ।
  • চিঠির ওপরের অংশের বাঁ দিকে প্রাপকের উদ্দেশে সম্বোধন বা সম্ভাষণ।
  • চিঠির বক্তব্য বিষয় বা পত্রগর্ভ। পত্রগর্ভে- প্রাক্-ভাষণ বা ভূমিকা, পত্রসার, বিদায় ভাষণ অন্তর্গত।
  • নিবেদন এবং স্বাক্ষর।
  • চিঠির শিরোনাম। খামের উপর পরিষ্কারভাবে ঠিকানা লিখতে হবে (বিদেশি চিঠিতে ঠিকানা হবে ইংরেজি ভাষায়)।

বন্ধুকে চিঠি লেখার নিয়ম বা নমুনা

২২ মে, ২০২২ ইং

প্রিয় আবির,
অনেক দিন তোমার চিঠিপত্র পাই না। আশা করি ভালো আছ। ইতিমধ্যে আমি এবং আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে আগামী পূজার ছুটিতে দেশভ্রমণের একটা পরিকল্পনা করেছি। গন্তব্য স্থান হল মাদ্রাজ শহর এবং আশেপাশের এলাকা। আমাদের ইচ্ছা তুমিও এই আনন্দময় ভ্রমণে যোগদান কর৷ মাদ্রাজ শহরে আমরা দেখব-সমুদ্রতীয়, সর্প উদ্যান, কুমির উদ্যান, মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্য দর্শনীয় স্থানগুলি৷ একটা পুরো দিন রেখে দেব মহাবলীপুরম দেখতে। এখানে পহুভ রাজাদের আমলের পাহাড় কেটে আর পাথর খোদাই করে তৈরি অপূর্ব মন্দির আর ভাস্কর্য রয়েছে৷ সত্যি বলতে কী!! মাদ্রাজে দেখার মতো এত সব রয়েছে যে সেগুলি দেখার লোভ সম্বরণ করা যায় না।

তোমার সম্মতি আছে মনে করে আমরা তোমার নামও তালিকাভুক্ত করে নিলাম। অক্টোবর মাসের সুবিধেমতো কোনও তারিখের জন্য করমণ্ডল এক্সপ্রেসের টিকিট কাটা হবে। অতএব আমাদের এই প্রস্তাবে ‘না’ করো না যেন।

তোমার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

ইতি
তোমার একান্ত মেরাজুল


বাবার কাছে চিঠি লেখার নিয়ম বা নমুনা

প্রিয় বাবা,
আমি তোমার আর মায়ের সঙ্গে কোনো সিনক্রিয়েট করতে চাই না। তাই মর্জিনার সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলাম। মর্জিনাকে তুমি চিনবে না। ওকে আমি ভালোবাসি। ও খুবই ভালো মেয়ে।

আমি জানি, তোমরা ওকে কোনো দিন মেনে নেবে না। কারণ ও আমার চাইতে বয়সে অনেক বড়। একটা বাসায় বুয়ার কাজ করে। বস্তিতে থাকে। পাশাপাশি ইয়াবার ব্যবসাও করে। তা ছাড়া সে প্রেগন্যান্টও। ওর স্বামী ওকে ছেড়ে চলে গেছে। মর্জিনা আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমার অনেক খেয়াল রাখবে।

তুমি চিন্তা কোরো না বাবা। আমি একদিন ঠিকই ফিরে আসব। সেদিন তোমার অনেকগুলো নাতি-পুতি থাকবে। আমাদের জন্য দোয়া কোরো। আমার বয়স এখন ১৮+। নিজের ভালো-মন্দ বুঝি। তাই আমার জন্য চিন্তা কোরো না। ভালো থেকো।

ইতি তোমার ছেলে
বিপুল


প্রেমিকার কাছে চিঠি লেখার নিয়ম

প্রিয় প্রেমি,
আমি কখনো তোমার হাত ছুঁয়ে দেখিনি কখনো একসাথে হাসিনি। কখনো একসাথে কাঁদিনি। একসাথে কখনো বৃষ্টিতে ভিজি নি। কখনো চুমু খাইনি তোমার ঠোঁটে। তবু তোমায় ভালোবাসি। কোন কিছু ছাড়াই ভালোবাসবো,… মৃত্যু পর্যন্ত… মৃত্যুর পরেও… আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি ভালো থেকো।

ইতি
তোমার প্রেম


প্রধান শিক্ষককে চিঠি লেখার নিয়ম

২৩/০২/২০২০

প্রধান শিক্ষক
কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, নাটোর

বিষয়: দরিদ্র তহবিল থেকে সাহায্যের জন্য আবেদন।

জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমার বোন এই স্কুলেরই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী । আমার বাবা একজন কৃষক। তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাদের সংসারে অভাব-অনটন দেখা দিয়েছে। বাবার চিকিৎসা চালাতে আমাদের অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। ওদিকে আবার আমার ছোটবোনের পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। এ সংকটের কারণে আমি এ মাসে স্কুলের বেতন দিতে পারিনি।

অতএব বিনীত প্রার্থনা, আমার বিদ্যালয়ের বেতন মওকুফ এবং দরিদ্র তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা করে আমাকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলে আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।

নিবেদক
আপনার একান্ত অনুগত
অন্তরা দাশ
দশম শ্রেণি, ক শাখা
ক্রমিক নম্বর: ১০


সংবাদপত্রে চিঠি লেখার নিয়ম

তারিখ : ২০/০৩/২০১২ ইং

সম্পাদক,
দৈনিক ইত্তেফাক
১, নং রামকৃষ্ণ মিশন রোড, ঢাকা।
বিষয়: সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র।

মহোদয়,
আপনার পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে মশার উপদ্রব সংক্রান্ত পত্রটি ছাপানোর বিনীত অনুরোধ করছি।

নিবেদন
রাজ সামি
১৬৪ উত্তর গোড়ান
ঢাকা ১২১৯

মশার উপদ্রবে জনজীবন অতিষ্ঠ

রাজধানীর গোড়ান, সিপাইবাগ ও খিলগাঁও এলাকায় মশার উপদ্রবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে পঙ্গপালের মতো মশার হামলা শুরু হয়। এতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় খুবই বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে পরিক্ষার্থীরা রাত জেগে লেখাপড়া করতে পারছে না।

দুঃখের বিষয় মশার অত্যাচার সহ্যসীমার বাইরে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা নেই। এ ব্যাপারে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এলাকাবাসীর পক্ষে
রাজন সামি
১৬৪ উত্তর গোড়ান
ঢাকা-১২১৯


প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লেখার নিয়ম

বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ সরকার।

বিষয়: চাকরির সাহায্য চেয়ে আবেদন।

স্যার,
আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, প্রানিবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতেছি। জীবনের সাথে অনেক সংগ্রাম করে পড়াশোনার এই স্তর টিতে পৌঁছাতে পেরেছি, আমি খুব গরিব ঘরের একটি স্বপ্নদ্রোষ্টা ছেলে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখি পড়ালেখা করে বড় হয়ে মা বাবার দুঃখ দূর করবো, এই ভেবেই এতো কষ্ট সহ্য করে এতদূর প্রযন্ত আসা লেখাপড়া নিয়ে।

স্যার ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল সামরিক বাহিনীতে চাকরি করবো কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে শত চেষ্টা করার পর ও সফল ছুঁতে পারিনি। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে আমি তাদের সাথে যোগ দিতে চাই। স্যার আমার এই অনুরোধটি গ্রহণ করলে আমি খুব খুশি হবো এবং নিজেকে দেশ সেবায় ধন্য মনে করবো। আপনার সহযোগিতার কারণে আমার মনের ইচ্ছাটা পূরণ হতে পারে।

নিবেদক
কুদ্দুস মিয়া
দাউদকান্দি
রংপুর সদর, রংপুর


আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক, গল্পের বই সহ যে কোন পিডিএফ ডাউনলোড করতে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের যে কোন আপডেট মিস করতে না চাইলে ফেসবুক ও ইউটিউবে সাবক্রাইব করে আমাদেস দাথে কানেক্ট থাকতে পারেন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।