আহ্বান গল্পের অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর

আহ্বান গল্পের অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর

আহ্বান গল্পের অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর: “আহ্বান” গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাবলি থেকে সংকলিত হয়েছে। এটি একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প । মানুষের স্নেহ-মমতা-প্রীতির যে বাঁধন তা ধনসম্পদে নয়, হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে ওঠে।

ধনী-দরিদ্রের শ্রেণিবিভাগ ও বৈষম্য, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে যে দূরত্ব সংস্কার ও গোঁড়ামির ফলে গড়ে ওঠে তাও ঘুচে যেতে পারে- নিবিড় স্নেহ, উদার হৃদয়ের আন্তরিকতা ও মানবীয় দৃষ্টির ফলে।

দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামের মানুষের সহজ-সরল জীবনধারার প্রতিফলনও এই গল্পের অন্যতম উপজীব্য। এ গল্পে লেখক দুটি ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও আর্থিক অবস্থানে বেড়ে-ওঠা চরিত্রের মধ্যে সংকীর্ণতা ও সংস্কারমুক্ত মনােভঙ্গির প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

গ্রামীণ লােকায়ত প্রান্তিক জীবনধারা শাস্ত্রীয় কঠোরতা থেকে যে অনেকটা মুক্ত সে-সত্যও এ গল্পে উন্মােচিত হয়েছে।


আহ্বান গল্পের অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর 

প্রশ্ন। ‘ওর স্নেহাতুর আত্মা বহুদূর থেকে আমায় আহ্বান করে এনেছে’— এ উক্তির তাৎপর্য কী?
উত্তর: প্রশ্নের উক্তিটির মাধ্যমে গল্পকথক ও অনাথা বুড়ির মাঝে আত্মিক সম্পর্কের দিকটি বোঝানো হয়েছে। ‘আহ্বান’ গল্পে অল্পদিনের পরিচয়েই গল্পকথকের সঙ্গে বুড়ির স্নেহ-মমতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুড়ি কথককে নিজের সন্তানের মতো ভাবতে শুরু করে। স্নেহের বশে বুড়ি প্রত্যাশা করে, সে মারা যাবার পর গল্পকথক যেন তার কাফনের কাপড় কিনে দেয়। এর প্রায় দেড় বছর পরে বুড়ি যেদিন মারা যায়, কাকতালীয়ভাবে ঠিক তার পরদিনই শহর থেকে গ্রামে যান কথক। গ্রামে ফিরে বুড়ির মৃত্যুসংবাদ শুনে তাঁর উপলব্ধি হয়, বুড়ির স্নেহাতুর আত্মাই তাঁকে বহুদূর থেকে আহ্বান করে এনেছে।

প্রশ্ন। ‘আমার মন হয়তো ওর ডাক এবার আর তাচ্ছিল্য করতে পারেনি’— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আহ্বান’ গল্পে কথিত বুড়ির সাথে গল্পকথকের আত্মিক সম্পর্কের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। গল্পকথককে বড় বেশি স্নেহ করতেন বুড়ি। তার স্নেহের আবেদনকে উপেক্ষা করতে পারেননি কথকও। তাই অনেকদিন পর গ্রামে এসে বুড়ির মৃত্যুর কথা শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন লেখক। বুড়ির স্নেহের টানে গ্রামে এসেছেন— কথকের এ উপলব্ধির দিকটিই প্রশ্নোক্ত উদ্ভিতে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন। “চিনবে না। আমি অনেকদিন গাঁয়ে আসিনি”- উক্তিটি কেন করা হয়েছে?
উত্তর: গাঁয়ে বহুদিন না আসায় তাকে চেনার কথা বোঝাতে ‘আহ্বান’ গল্পের কথক আলোচ্য উক্তিটি করেছিল। কথক শহরে চাকরি করে। এ কারণে তার গাঁয়ে আসা হয় না। তার পৈতৃক বাড়ি যা ছিল ভেঙেচুরে ভিটিতে জঙ্গল গজিয়েছে। তাই গাঁয়ের অনেক লোকই তাকে চিনবে না সেটাই স্বাভাবিক। এ কারণেই বৃদ্ধা কথককে চিনতে না পারলে কথক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল।

প্রশ্ন। বুড়ি কেন প্রায়ই লেখকের জন্য এটা-সেটা নিয়ে আসত?
উত্তর: লেখকের প্রতি স্নেহের কারণে বুড়ি প্রায়ই এটা-সেটা নিয়ে আসত। স্বামী-সন্তানহীন বুড়ির আপন বলতে কেউ ছিল না। একদিন লেখকের সঙ্গে দেখা হলে লেখক বুড়ির খোঁজ-খবর নেন ও তাকে কিছু টাকা দেন। লেখকের এ সামান্য মনোযোগই অবহেলিত নিঃসঙ্গ বুড়ির মনে দাগ কাটে। তাই তো বুড়ি কখনো পাকা আম, পাতি লেবু, কখনো দুধ বা কাঁচকলা এনে লেখকের প্রতি তার অকৃত্রিম স্নেহের প্রকাশ ঘটাত ।

প্রশ্ন। ‘স্নেহের দান এমন করা ঠিক হয়নি’— কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘আহ্বান’ গল্পের কথকের প্রতি বৃদ্ধার স্নেহ-ভালোবাসাপূর্ণ এক সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায়। অসহায় বুড়ি কথককে স্নেহ করে প্রতিদিনই তার জন্যে কিছু না কিছু নিয়ে আসে। একদিন সে তার পাতানো মেয়ের কাছ থেকে কিছুটা দুধ কথকের জন্যে চেয়ে আনে। এতে কথক কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে দুধের দাম দিয়ে দেন। পরবর্তীতে কথকের কাছে বিষয়টি ঠিক বলে মনে হয়নি যা প্রশ্নোক্ত উক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

প্রশ্ন। ‘বুড়ি একটু ঘাবড়ে গেল।’ কেন?
উত্তর: ‘আহ্বান’ গল্পের কথকের প্রতি বৃদ্ধার স্নেহ-ভালোবাসাপূর্ণ এক সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায়। অসহায় বুড়ি কথককে স্নেহ করে প্রতিদিনই তার জন্যে কিছু না কিছু নিয়ে আসে। একদিন সে তার পাতানো মেয়ের কাছ থেকে কিছুটা দুধ কথকের জন্যে চেয়ে আনে। এতে কথক কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে দুধের দাম দিয়ে দেন। পরবর্তীতে কথকের কাছে বিষয়টি ঠিক বলে মনে হয়নি যা প্রশ্নোক্ত উক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

প্রশ্ন। বাঙালি নারী স্বামীর নাম মুখে নেয় না কেন?
উত্তর: সামাজিক রীতি ও ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে বাঙালি নারী স্বামীর নাম মুখে নেয় না। তৎকালীন সমাজে নারীরা ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও সংস্কারের কারণে স্বামীর নাম মুখে আনতে পারত না, যা একসময় প্রথা বা রীতিতে পরিণত হয়। এজন্য কোনো নারী স্বামীর নাম মুখে আনাকে রীতিবিরুদ্ধ এবং অশোভনীয় মনে করে। তাই বাঙালি নারীরা স্বামীর নাম মুখে নেয় না।

প্রশ্ন। ‘ব্যাপারটা এখানেই চুকে যাবে ভেবেছিলাম’— কোন ব্যাপারটা? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বুড়ির দারিদ্র্যের কথা শুনে তাকে কিছু অর্থসাহায্য করলেই সম্পর্ক চুকে যাবে বলে ধারণা করেছিলেন গল্পকথক। ‘আহ্বান’ গল্পের কথক শহরে চাকরি করেন। অনেকদিন পর গ্রামে বেড়াতে এসে বাজারে যাওয়ার পথে আমবাগানের মধ্যে এক বুড়ির সাথে দেখা হয় তাঁর। পরিচয় হওয়ার পর বুড়ির কষ্টের কথা শুনে কথক তাকে কিছু পয়সা বের করে দেন এবং মনে মনে ভাবেন যে বুড়ির সাথে আর হয়তো দেখা হবে না। আর দেখা না হলে ব্যাপারটা তখনই মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু কথকের অনুমান পরে মিথ্যে হয়ে যায়। প্রশ্নোত্ত উক্তিটিতে এ ভাবার্থই প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন। ভয়ে ভয়ে বলে, কেন বাবা, পয়সা কেন? – কে, কাকে, কেন বলেছে?
উত্তর: গল্পকথক বুড়িকে আপন করে নিতে পারেনি ভেবে বুড়ি আলোচ্য উক্তিটি করেছিল। ‘আহ্বান’ গল্পে এক মুসলিম বুড়ি গল্পকথককে আপন পুত্রের মতো স্নেহ করে। পরম স্নেহের কারণে বুড়ি একদিন গল্পকথকের জন্য দুধ নিয়ে আসে। গল্পকথক অসহায় গরিব বুড়ির কষ্টের কথা ভেবে দুধের দাম দিতে গেলে বুড়ি মনে খুব কষ্ট পায়। কারণ এ যে বুড়ির স্নেহের দান। গল্পকথক তাকে আপন করে নিতে পারেনি ভেবে একটু দমে গিয়ে বুড়ি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। এখানে বুড়ির স্নেহ বস্তুগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রশ্ন। ‘আমার যে তেনার নাম করতে নেই বাবা’- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক রীতি-নীতির কারণে বৃদ্ধা প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করেছেন। ‘আহ্বান’ গল্পে বর্ণিত কথক বৃদ্ধাকে চিনতে পারেনি। বৃদ্ধা তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন তার স্বামী করাতের কাজ করতেন। কিন্তু সে স্বামীর নাম বলতে পারছে না। কারণ তখন এক ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত ছিল যে, নারী তার স্বামীর নাম মুখে আনতে পারবে না। এ কারণেই বৃদ্ধা প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করেছিলেন।

প্রশ্ন। ‘সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো, ও বেঁচে থাকলে বলে উঠতো, অ মোর গোপাল’ – ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটির মাধ্যমে লেখকের প্রতি বুড়ির ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। লেখক গ্রামের বাড়িতে গেলেই বুড়ি অন্য সব ভুলে প্রফুল্লচিত্তে তাঁর সাথে দেখা করতে যেত। সে স্নেহভরে লেখককে গোপাল বলে সম্বোধন করত। বুড়ি মরার পর তার কবরে মাটি দেয়ার সময় লেখকের মনে হয়, বুড়ি আজ বেঁচে থাকলে তাঁর গ্রামে আসার কারণে কত খুশিই না হতেন। ভালোবেসে তাকে গোপাল বলে ডেকে উঠতেন।


🔰🔰 আরও দেখুন: আহ্বান গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (PDF)


আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক, গল্পের বই সহ যে কোন পিডিএফ ডাউনলোড করতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

আমি মেরাজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পাশাপাশি একজন ব্লগার। এডুকেশন এর প্রতি ভালোবাসাও অনলাইল শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর জন্য এডুকেশন ব্লগের পথচলা। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড সকল কাজ করি।

View all posts by মেরাজুল ইসলাম →